ভারতের কাছে তেল "ভিক্ষা" চাইলো তারেক রহমান

তারেক রহমান
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরান সংকটের মুখে যখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট, তখন কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমের (Kolkata24x7) অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ হেডলাইন বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল আমদানির প্রস্তাবকে ওই সংবাদমাধ্যম ‘ভিক্ষা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
প্রকৃতপক্ষে, বিএনপি সরকার ভারতের কাছ থেকে কোনো সাহায্য বা করুণা চাচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে বৈঠকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) ও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOCL) থেকে অতিরিক্ত ৫০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয় বা আমদানির প্রস্তাব দিয়েছেন।

এটি একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া যা দুই দেশের বিদ্যমান ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন ও ২০১৭ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতাভুক্ত।আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করেই এই জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়। একে ‘ভিক্ষা’ হিসেবে প্রচার করা কেবল ভুল তথ্যই নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাকে অবমাননা করার শামিল।

ইরান সংকটের কারণে স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশই বিকল্প উৎসের সন্ধানে রয়েছে। বাংলাদেশ তার আমদানির ৯৫ শতাংশ জ্বালানি বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত ও সাশ্রয়ী সরবরাহের আলোচনা করছে। এটি একটি দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ অর্থাৎ তেলের বিনিময়ে বাংলাদেশ নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করছে, এটি কোনো অনুদান নয়। তাই একে ‘ভিক্ষা’ বলা কূটনৈতিকভাবে চরম অপেশাদারিত্ব।

হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়ে একটি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রধান বা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ছোট করার এই হীন চেষ্টা মূলত সাংবাদিকতার ন্যূনতম আদর্শকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেখানে ইরান বাংলাদেশি তেল ট্যাঙ্কারদের নিরাপদ পথ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এবং চীনও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, সেখানে ভারতের একটি গণমাধ্যম কর্তৃক এ ধরনের শব্দচয়ন প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী।

বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মার্চ মাসের জন্য পর্যাপ্ত (২.৮ লাখ টন) ডিজেলের ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। ভারতের কাছে চাওয়া অতিরিক্ত সরবরাহটি মূলত আপৎকালীন মজুত নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ মাত্র।

সসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী এই হেডলাইনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন,
“ব্যবসা আর ভিক্ষার পার্থক্য না বোঝা ওই সংবাদমাধ্যমের চরম দারিদ্র্যতা প্রকাশ পাচ্ছে"

আহসানুল্লাহ নামের আরেকজন মন্তব্য করেছেন,
"পাতে ভাত না পেয়ে বাংলাদেশে তেল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিলো ভারত"
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের স্বার্থে গণমাধ্যমগুলোর আরও দায়িত্বশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়।

Post a Comment

0 Comments