Responsive Advertisement

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন মেরুকরণ: কক্সবাজারে জামায়াত নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতার ইফতার নিয়ে তোলপাড়

Jamaat ei islam
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সারা বাংলার আপামর জনতা যখন রাজপথে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনীর অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র আর জুলুমের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিল, তখন সেই যুদ্ধের মূল লক্ষ্যই ছিল দেশকে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত করা। কয়েক হাজার প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সেই স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে এক নজিরবিহীন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল স্থানীয় মানুষ। ২০২৪-এর সেই লড়াইয়ের স্মৃতি যখন এখনো মানুষের মনে তরতাজা, তখন জামিনে মুক্ত হওয়া ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীর কর্মকাণ্ড নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা জামায়াতের এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে জনসম্মুখে রাস্তায় বসে ইফতার করতে দেখা গেছে এই আওয়ামী লীগ নেতাকে।

শুক্রবার ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনা এলাকায় এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। যেখানে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাদের সাথে একই সারিতে বসে ইফতার করেন সোহেল জাহান চৌধুরী। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন:
মিলেঝুলে তো সবাই তলে তলে টেম্পু চালায় দেখতেছি। এইটা ইফতার নাকি বক্তিমা পার্টি? ছি ছি ছি রে ননী ছি।
তার এই মন্তব্যে মূলত বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী নেতাদের সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের আকস্মিক সখ্যতা এবং রাজনৈতিক আদর্শের বিচ্যুতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা রাজপথে লড়াই করে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ হটিয়েছেন, তাদের কাছে এ ধরনের "তলে তলে" সমঝোতার খবর ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-জনতা লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, সেই শক্তির কোনো প্রতিনিধির সাথে এমন সখ্যতা জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক কি না। বিশেষ করে সোহেল জাহান চৌধুরী বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগেও একইভাবে বিতর্কিত হয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি ধানের শীষের জন্য ভোট চেয়ে এবং জামায়াত নেতাদের দিয়ে মোনাজাত করিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে অনেক আওয়ামী নেতা এখন বিরোধী দলগুলোর সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করছেন। ঈদগাঁওর এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণের সংকেত কি না, তা নিয়ে এখন চারদিকে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে সাধারণ মানুষ মনে করে, ২০২৪-এর বিপ্লবের মূল চেতনা যেন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার বলি না হয়, সেদিকে সজাগ থাকা প্রয়োজন।

Post a Comment

0 Comments