![]() |
| ড. খলিলুর রহমান এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর |
বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি একটি মহাসংকটের দিকে ধাবিত হয়েছে। সম্প্রতি আইওসিতে দেওয়া বক্তব্যে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, বিশ্ব রাজনীতিতে যুদ্ধবিরতি হলেও এই জ্বালানি সংকট এত দ্রুত কাটার নয়। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন উঠছে, এই সংকটের জন্য দায়ী কি কেবল বিশ্ব পরিস্থিতি?
নাকি সরকারের চরম অদূরদর্শিতা এবং নতজানু পররাষ্ট্রনীতি? যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকে, তখন প্রতিটি স্বাধীন দেশ তাদের নিজেদের উৎস এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা দেখলাম এক অবাক করা উপেক্ষা এবং ভবিষ্যৎ-হীনতা।
কেন জনগণের দুর্ভোগে এমপি মন্ত্রীদের মিথ্যা বক্তব্য?
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের পূর্বাভাস অনেক আগে পাওয়া গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার কার্যকরী প্রস্তুতি নেয়া হয়নি। বরং আমরা দেখেছি সরকারি মন্ত্রী এবং উপদেষ্টারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিডিয়ার সামনে এসে বলেছেন, "দেশে তেলের কোনো অভাব নেই, আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ আছে।"কিন্তু বাস্তবত চিত্র হলো একদম ভিন্ন। দেশের সকল গুলোতে দেখা যাচ্ছে তেলের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত "তেল নেই" বলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া—এটা কি একটি গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের প্রাপ্য? যখন সংকট চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল, তখন মন্ত্রীদের সুর পাল্টে গেল। এখন তারা বলছেন, "এত দ্রুত সমাধান হবে না।" এই যে বিপদের আগে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া, এটা কি জনগণের সাথে এক প্রকার প্রতারণা নয়?
বাংলাদেশের সংকট সমাধানে কেন অন্যের অনুমতির অপেক্ষা করতে হবে?
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু জ্বালানি সংকটের সময় যখন রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল নেওয়ার কথা উঠল, তখন আমাদের সরকারকে দেখা গেল আমেরিকার অনুমতির দিকে চেয়ে থাকতে। একটি স্বাধীন দেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন অন্য একটি দেশের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে?ভারত রাশিয়া থেকে তেল নিতে পারলো, চীন সহ আরো অনেক দেশ রাশিয়া থেকে তেল নিতে পারলো কিন্তু বাংলাদেশ কেন পারল না? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের এই "পরনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতি"র জন্যই আজ সাধারণ মানুষকে তেলের পাম্পে লাইন দিতে হচ্ছে।
সৌদি কোম্পানি আরামকোর বিনিয়োগে ভারতীয় চাপ
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে সৌদি আরামকোর মতো বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল। তারা তেলের রিফাইনারি এবং বিশাল স্টোরেজ বা মজুদাগার নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব তখন গ্রহণ করা হয়নি। কেন গ্রহণ করা হয়নি? সাধারণ মহলে ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় চাপে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।বাংলাদেশকে যেন ভারতের ওপর জ্বালানি আমদানির জন্য নির্ভরশীল থাকতে হয়, সেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সৌদি আরামকোকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে, ভারত থেকে পাইপলাইন দিয়ে ডিজেল আসার কথা বলা হয়েছে। দেখতে মনে হচ্ছে ভারত আমাদের উপকার করছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদীভাবে এটা বাংলাদেশকে একটি নিশ্চিত "পরাধীনতার" দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভারতের পাইপলাইনের ওপর নির্ভর করার মানে হলো, আমাদের জ্বালানির চাবি অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়া।
এটা কি গণতন্ত্র? দ্বিতীয় স্বাধীনতার পুরস্কার?
গণতন্ত্র মানে কেবল ভোট দেওয়া নয়, গণতন্ত্র মানে হলো জনগণের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার যা করছে, তাকে কি প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক বলা যায় কিনা সেটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে? অভিযোগ উঠছে যে, তারা ভারত এবং আমেরিকার সন্তুষ্টির জন্য নীতি নির্ধারণ করছে, যাতে তাদের ক্ষমতা চেয়ার শক্ত থাকে। তাই জনগণ কেমন ভোগান্তিতে রয়েছে এদিকে তাদের ভ্রূক্ষেপ নেই।৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের কথা মনে করিয়ে দিলেন ড. খলিলুর রহমান
ড. খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে ৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এটি একটি "লস্ট ডিকেড" হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন যে, যুদ্ধ বন্ধ হলেও এই সমস্যার সমাধান হবে না। তার মানে, সরকার যে বিশ্ব রাজনীতির দোহাই দিয়ে দায় এড়াতে চায়, তা একটি লোকচুরি ছাড়া আর কিছুই নয়।২০২৪ এ ছাত্রজনতা হাসতে হাসতে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন এটা ভেবে যে, আমার পরবর্তী রাষ্ট্র হবে জবাবদিহিতার রাষ্ট্র। আজ আমি শহিদ হবো তার বিনিময়ে আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে যাবো। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্ত করে যাবো। কিন্তু কতটুকু মুক্ত হতে পারলো দেশের জনগণ?
আজ মন্ত্রীরা মিডিয়াতে সবার সামনে মিথ্যা কথা বলছেন অথচ কেউ তার মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সামনা সামনি প্রশ্ন করতে পারছেনা। কেউ বলতে পারছেনা, মন্ত্রী মশায় আপনি কেন বলেছিলেন সংকট নেই? আজ কেন জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে?
এদিকে ভারতের পাইপলাইনের ওপর নির্ভর না করে কেন বিকল্প ব্যবস্থা করছিনা? আজ এসকল প্রশ্ন গুলো জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে যে দেশ কেন তেলের অভাবে অচল হয়ে পড়ছে?

