জুলাই কি তবে ফিরে এলো? দাবি আদায়ে জনগণের কাতারে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা জামায়াতের

Khomota
0
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয় বলে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের

জনগণের চূড়ান্ত রায় অগ্রাহ্য করায় আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের

ঢাকা, ২ এপ্রিল ২০২৬:
সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ ও সংস্কার পরিষদের নির্বাচনের পর গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয় বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা ড. শফিকুর রহমান। ২০২৪ এর জুলাইয়ে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে, তিনি জানিয়েছেন যে সংসদ ভবনে এর সুরাহা না হওয়ায় তারা এখন দাবি আদায়ে রাজপথে জনগণের কাছে ফিরে যাবেন। ​গতকাল সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কার পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ

ড. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'জুলাই সনদ' তৈরি করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সরকারি দলের সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এমনকি নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো সভাও আহ্বান করা হয়নি। বিরোধী দল যখন এর প্রতিকার চেয়ে সংসদে মূলতবি প্রস্তাব আনে, তখন সরকারি দল সেই প্রস্তাবকে পাশ কাটিয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।

'সংবিধান সংশোধন নাকি, সংবিধান সংস্কার?'

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা জনগণের রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক। বিরোধী দলের নেতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান: "জনগণ যে রায়টা দিয়েছে আমরা ওইটার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। জনগণ সংবিধান সংশোধনের জন্য রায় দেয়নি, জনগণ সংবিধান সংস্কারের জন্য ভোট দিয়েছে।" তিনি আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশে একাধিকবার গণভোট হলেও জনগণের এমন স্পষ্ট রায়কে এভাবে অগ্রাহ্য করার কোনো নজির নেই।

আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের

তিনি আরো বলেন সংসদে যেহেতু আমরা প্রতিকার পাইনি তাই এখন আমরা জনগণের আদালতেই চূড়ান্ত ফয়সালা খুঁজছি। তাছড়া বিরোধী দল ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থ নয়, বরং দেশের কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই।

প্রধাণ বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

কিছু বিষয়ে কালকে আমাদেরকে আপনারা জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমরা বলেছিলাম যে কষ্ট করে ধৈর্য ধরে আগামীকাল পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করবেন। আপনারা সে অপেক্ষা করেছেন এবং এখানে উপস্থিত আছেন। আমি সংসদে বিরোধী দলের সকলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আজকের বিষয়টি আমাদের কারো কোন দলীয় বিষয় নয়। এটি জাতির অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সবাই জানি বিশেষ প্রেক্ষাপটে ​দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের ফেসিবাদী শাসনের পর সীমাহীন ত্যাগ এবং কুরবানির মাধ্যমে অসংখ্য তরুণ যুবক ছাত্র-ছাত্রী শিশু শ্রমিক ব্যবসায়ী জনতা জীবন দিয়ে ​এই পরিবর্তনটা এনে দিয়েছেন। এবং বিগত ২৪ এর জুলাইয়ে অসংখ্য মানুষ পঙ্গত বরণ করেছেন। কষ্ট স্বীকার করেছেন। এই সবকিছুর বিনিময়ে ৫ই আগস্ট যে পরিবর্তন এসেছিল সেই পরিবর্তনের পরে নিঃসন্দেহে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়। ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দুইটা ভাষণ আপনারা শুনেছেন। ​একটা শুনেছেন বিকাল পৌনেচারটায়। এই ভাষণটা দিয়েছিলেন বর্তমান সেনাপ্রধান।

আরেকটা ভাষণ আপনারা শুনেছেন সম্ভবত রাত্রে পৌনে বারোটায়। এটি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনাব শাহাবুদ্দিন আহমদ। দুই ভাষণের সাক্ষী বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ এবং বিশ্ববাসী। সেইদিন পট পরিবর্তনের পর প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আর সিভিল সোসাইটির দুই একজন সদস্য আমরা জাতির প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে বঙ্গভবনে বসেছিলাম। প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছিলেন আমাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি মঞ্জুর করেছেন কিনা? তিনি বলেছেন মঞ্জুর করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফিরে আসুক। আমরা কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং আমরা এও বলেছিলাম যে গণঅভ্যুত্থান আর বিপ্লব যাই বলি এখানে নেতৃত্বের মূল জায়গাটায় তরুণ যুবসমাজ ছাত্রসমাজ ছিল তাদের প্রতিনিধিদের সাথে আপনাদেরকে বসতে হবে তাদের কথা শুনবেন তাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেবেন। আর আমরা যে পরামর্শ দিয়ে গেলাম সেগুলাকে আপনারা কনসিডারেশনে নেবেন। নিয়ে দ্রুত যাতে আবার দেশ একটা শৃঙ্খলার দিকে ফিরে আসে সেই উদ্যোগ আপনারা গ্রহণ করবেন।

এখানে কথা ছিল পরের দিন তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিবেন। পরের দিন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেবেন। এবং দ্রুততম সময়ের ভিতরে একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাঠামো গঠন করবেন। আট তারিখ পর্যন্ত এগুলা হয়েছে। বাংলাদেশের পাঁচ ছয় সাত আট এই চার দিন কার্যত কোন সরকার ব্যবস্থাপনা ছিল না। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল না। রাস্তায় তাও সীমিত জায়গায় কেবল সেনাবাহিনীর সামান্য টহল ছিল। দুনিয়ায় বহু জায়গায় এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার কোথাও পালিয়ে গেছে কোথাও জনতার হাতে ধরা পড়েছে। ক্ষমতা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে, ছুড়ে ফেলা হয়েছে। সেই সমস্ত জায়গায় বহু কান্ড কারখানা ঘটেছে। বিপ্লব এবং অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জীবনহানি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের আনরেস্ট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম। আমরা সে রাতেই পাঁচ তারিখ রাতেই জাতিকে আহ্বান জানিয়েছিলাম। ধৈর্য ধরার জন্য শান্ত থাকার জন্য এবং বাংলাদেশকে ভালোবাসা এই নাগরিকগুলো যাতে আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন স্বপ্রণোদিত হয়ে আমরা আহবান জানিয়েছিলাম

আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এরপরে বড় ধরনের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি যা হয়েছে খুবই মিনিমাম সেটাও আমরা যে সমর্থন করি তা না কিন্তু আমাদের সমর্থনে কিছু আসা যায় যারা করেছে তারা কেউ আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে এগুলা করেনি। তবে এগুলাকে সামাজিকভাবে কেউ প্রশ্রয় দেয় নাই। যার কারণে খুব দ্রুত সময় এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। খুব মিনিমাম। এরপরে আপনারা দেখেছেন এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে ছয়টা কমিশন গঠন করেছিল। সংস্কারের উদ্দেশ্যে। এই ছয় কমিশন যথারীতি সরকারের কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিতরে। তারপরে সরকার যেই সংবিধান ব্যবহার করে সংবিধানের কথা বলে জনগণের উপর দফায় দফায় ফেসিবাদ ছাপানো হয়েছিল। বিশেষ করে বিগত সাড়ে 15 বছরের দুঃসহ যন্ত্রণা যার ছাতাকলে শুধু বিচার বহির্ভূত 2663 জন মানুষকে খুন করা হয়েছে। গুমের সংখ্যা ছিল 10000 এর ঊর্ধে স্বল্প মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী এখনো ফিরে আসেননি আপনজনের কাছে এই সংখ্যাটা 250 এর ঊর্ধে তাদের কোন হদিস নেই তাদের আপনজনরা জানে না তারা কোথায়?

আয়নাঘর নামক কুখ্যাত ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল তার একটা প্রোটোটাইপ জুলাই মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে। সেখানে গেলে ওটা দেখা যাবে। আয়নাঘরে যারা ছিলেন তারা ভিজিট করে সাক্ষী দিয়েছেন যে ওরকমই তারা ছিলেন। আনথিংকেবল। ভাবা যায় না। কবরের মত একটা জায়গায় বের হওয়ার কোন উপায় নেই। আলো বাতাস নেই দিন রাত সাতটা মাস বৎসর গড়িয়ে কেউ সাড়ে আট নয় বছর পর্যন্ত ওখানে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বাধ্য করা হয়েছে এবং তাদের আপনজনরা জানতেন না যে তারা জীবিত না মৃত তারা কোথায় আছে এই সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে সংবিধানের দোহাই দিয়ে। এজন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল সাংবিধানিক বা সংবিধানের যে কাঠামো এই ফেসিবাদকে সমর্থন দিয়েছে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ব্যবহার করা তার একটা বড় ধরনের সংস্কার সাধন যখন সংস্কার কমিশন গঠন করা হলো কনসেন্সাসের জন্য তখন এখানে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছেন আমরা ছোট বড় বলে কাউকে দেখিনা আমরা বলব সম্মানের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সকল রাজনৈতিকদের সাথে সেখানে দিনের পর দিন সপ্তাহ পর সপ্তাহ মাসের পর মাস সেখানে আলোচনা হয়েছে এবং সেই আলোচনার লাইভ কাস্ট আপনারাই করেছেন মিডিয়ার সুবাদে সারা দেশবাসী এগুলো জানতে পেরেছি কে কি ভূমিকা রেখেছেন কে কি কথা বলেছেন সবগুলো জনগণের কাছে আছে শেষ পর্যন্ত তার কনক্লুশনে এসে একটা সনদ তৈরি হলো। এই সনদে গুরুত্বপূর্ণ সকল দলই স্বাক্ষর করল। আজকের বিরোধী দলে যারা আমরা আছি এবং সরকারি দলে যারা আছে এখানে সবাই আমরা সিগনেটরি ছিলেন। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে একটা প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেরও নির্দেশ দেয়া হলো। এ নির্দেশটাও সরকারি দল, বিরোধী দল আমরা সবাই গ্রহণ করলাম।

তবে আমাদের দাবি ছিল গণভোটটা আগে অনুষ্ঠিত হবে। তারপরে হবে সংসদ নির্বাচন। বর্তমান সরকারি দলের দাবি ছিল না একই দিনে দুইটা অনুষ্ঠিত হবে। শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের দাবির ব্যাপারে কিছু নমনীয় হলাম। আমরা চাইলাম যে গণভোটটা হোক। এবং এখানে লক্ষণীয় বিষয় সরকারি দলেরই কনসেন্সাস কমিশনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনিই কিন্তু গণভূতের প্রস্তাবটা উত্থাপন করেছে সংস্কার কমিশন বাকি সবাই আমরা সমর্থন করেছি কাজেই গণভোট আমরা সবাই চাইলাম সরকারের দলও চাইলো আমরাও চাইলাম গণভোটের চারটা সুনি নির্দিষ্ট প্রশ্নের ভিত্তিতে জনগণের রায় চাওয়া হয়েছে, ভোট চাওয়া হয়েছে। এটাও নির্বাচন কমিশন তার ওয়েবসাইটে বহু আগে এটা প্রকাশ করেছে। মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণের কাছে এটা গিয়েছে। তারা এটার পক্ষে প্রচারণাও চালিয়েছে। ইন্টেরিম গভমেন্টও এটার পক্ষে প্রথম দিকে প্রচারণা চালিয়েছে। পরে কোর্টের একটা দৃষ্টি আকর্ষণের পরে গভমেন্ট আর চালায়নি। কিন্তু এর আগে বহু প্রচারণা হয়েছে। নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে আমরা যারা এখন বিরোধী দলে আছি সবাই আমরা যারা জনগণের কাছে গিয়েছি আমরা দুটো ভোট চেয়েছি। আমরা চেয়েছি আমাদের প্রতীকের পক্ষে একটা ভোট। আমরা চেয়েছি সংস্কারকে সমর্থন করে কোন ভোটের একটা হ্যাঁ ভোট। যেমনটা আমরা চেয়েছি ঠিক তেমনটাই আজকে যিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তিনিও চেয়েছেন এবং অনুরূপভাবে তাদের অনেক নেতা চেয়েছেন। প্রকাশ্যে গণভোটের বিপক্ষে বর্তমান সংসদে যারা আছেন কেউ কোন কথা বলেনি।

দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হলো নিয়ম মাফিক এই ভোটে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবেন তারা সরকার গঠন করবেন এবং ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার 30 পঞ্জিকা দিবসের ভিতরে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেখানে বলা হয়েছে যে পদ্ধতিতে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হইবে অনুরূপ পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহবান করতে হবে। এটা বলা হয়েছে এই ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সাথে তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। বলা হয়েছে তাদের দুটি শপথ হবে। একটি শপথ সংসদ সদস্য হিসেবে আরেকটি শপথ সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বলা হয়েছে সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার পর 180 দিনের ভিতরে তারা সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং এর সাথে সাথে এই পরিষদের অটোমেটিক্যালি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই পরিষদ আর থাকবে না আমরা ইলেকশনের দিন পর্যন্ত একই অবস্থানে সবাই ছিলাম। কিন্তু ফল প্রকাশের পরে যখন সংসদ সচিবালয় থেকে আমাদেরকে দুইটা শপথের জন্য আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হলো আমরা সেই মোতাবেক আমাদের যে সময় স্লট ছিল আমরা হাজির হলাম আমরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলাম যেভাবে লেখা ছিল এরপরে আমরা শপথ নিলাম সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আমাদের আগে শপথ নিলেন সরকারি দলের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।

কিন্তু তারা একটা শপথ নিলেন আরেকটা নিলেন না। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে নিলেন সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নিলেন না। যে বাধ্যবাধকতাটা ছিল যে শপথ গ্রহণের বা গ্যাজেট প্রকাশের শপথ গ্রহণ না। গ্যাজেট প্রকাশের 30 পঞ্জিকা দিবসের উপরে ভিতরে ওই সংস্কার পরিষদের সভা আহবান করতে হবে সেটা করা হলো না কে করবে সংবিধান অনুযায়ী এই কাজটা করবেন প্রেসিডেন্ট কিভাবে করবেন তাকে লিখিত অনুরোধ জানাবেন যিনি সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি তাহলে দুইটা সভায় আহ্বান করা হবে তার লিখিত অনুরোধ দের প্রেক্ষিতি আমরা যখন দেখলাম যে এই সভা আহ্বান করা হচ্ছে না এবং লক্ষণীয়ভাবে সভাটা আহ্বান করা হলো সময়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে 12 ফেব্রুয়ারি ইলেকশন হলো সভা আহ্বান করা হলো 12 মার্চ ফেব্রুয়ারি মাস 28 দিনে হওয়ার কারণে আমরা 15 তারিখ পর্যন্ত একটা সুযোগ পেলাম। যেহেতু গ্যাজেট প্রকাশ হয়েছিল 13 ফেব্রুয়ারি আমরা সেদিনেই যখন দেখলাম যে জনগণের রায় অগ্রাহ্য হয়ে যাচ্ছে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি তখন আমরা পয়েন্ট অফ অর্ডারে আমি বিরোধী দলের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলেছি আমি সুযোগ চেয়েছি মাননীয় স্পিকার আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। বিষয়টা উত্থাপন করার পরে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা আমাদের দাবির কথা জানানোর পরে মাননীয় স্পিকার আমাদেরকে নোটিশ দিতে বলেন আমরা সেই নোটিশটি দেই তৃতীয় কর্মদিবসে অর্থাৎ 29 তারিখ এবং সেই নোটিশ সেদিন মাননীয় স্পিকার মহোদয় ছিলেন না তার স্ত্রীর বিয়োগজনিত কারণে ইন্তেকালজনিত কারণে ডেপুটি স্পিকার মহোদয় তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এই নোটিসটি আমলে নেন বিভিন্ন বাধার মুখেও আমলে নিয়ে আলোচনার জন্য ধার্য করা হয় 31 তারিখ দিবসের শেষ আলোচ্য বিষয় হিসেবে দুই ঘন্টার জন্য এ বিষয়ের উপরে আলোচনা হবে এ দিনটি ছিল গতকাল আমরা আলোচনায় সূত্রপাত করেছি যেহেতু নোটিসটা আমাদের মাননীয় স্পিকার প্রথমে আমার সময় দিয়েছেন। আমি বিষয়টা শুধু উত্থাপন করেছি মূল বিষয়ে আমি ঢুকিনি।

এরপরে আমাদের অনুরোধে তিনি সময় সমান সমানই দিয়েছেন। আমাদের পক্ষে যারা কথা বলার তারা তাদের যুক্তি কথাগুলো তুলে ধরেছেন। সরকারি দলও তুলে ধরেছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে অসংত কিছু কথা এসেছে। তার প্রতিবাদ আমাদের যারা কথা বলেছেন তারা করেছেন। আর কিছু জিনিসের প্রতিবাদ আমরা করতে পারিনি। কারণ শেষ বক্তা ছিলেন সরকারি দল থেকে মাননীয় আইনমন্ত্রী। তিনি একটা ভুল তথ্য দিয়ে জাতির সামনে কথা বলেছেন। এটি ছিল এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমদ তিনি বক্তব্য রেখেছেন। তার বক্তব্যে অনেক কথাই তিনি বলেছেন। কিছু কথা আমরা জবাব দিয়েছি। আরেকটা প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে উনারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। এটা হবে একটা বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্য। আমরা বলেছিলাম যে জনগণের কাছে যে গণভোটের জন্য রায় চাওয়া হয়েছে সেখানে সংবিধান সংশোধনের জন্য রায় চাওয়া হয়নি। রায়টা চাওয়া হয়েছে সংবিধান সংস্কারের জন্য। জনগণ যে রায়টা দিয়েছে আমরা ওইটার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। কাজেই এখানে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোন কমিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

যদি সদিচ্ছা নিয়ে তারা এই প্রস্তাব দিয়ে থাকেন তাহলে এটা এই সংস্কার সংক্রান্ত বিষয় হবে। এবং আমাদের শর্ত ছিল যদি এই কমিটিকে অর্থবহ একটা কমিটি হিসেবে ফাংশন করতে দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে সরকার এবং বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিতে হবে। তারা অবশ্যই এটার আপত্তি করেছেন। এরপরে আলোচনা শেষ হয়ে গেছে। আইনমন্ত্রী দাঁড়িয়ে বলেছেন যে আমি তাদের প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছি। অর্থাৎ আমি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যে কমিটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এটা আমি মেনে নিয়েছি না। আমি বলেছিলাম এটা হতে হবে সংবিধান সংস্কার এবং আপনারা শুনেছেন এটা স্পষ্ট বক্তব্য ছিল। আমাকে মিসকোট করার কারণে মাননীয় স্পিকার যখন বিষয়টা সমাপ্তির দিকে গেলেন আমি বলেছিলাম যে আমার কৈফিয়ত আছে আমাকে সুযোগ দেওয়া হোক। স্পিকার মহোদয় বললেন আজকে যেহেতু কর্মঘন্টা যা নির্ধারিত ছিল শেষ হয়ে গেছে আপনার কথা থাকলে কালকে শুনবো আপনি বলতে চাইলে।

যথারীতি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এ ধরনের কোন বিষয় থাকলে প্রশ্নোত্তর পূর্ব শেষ হওয়ার পরে এটাতে আসা যায় আমি সেভাবেই দাঁড়িয়েছি আজকে এবং তিনি আমাকে সুযোগ দিয়েছে সুযোগ দেওয়ার পরে আমি তার কাছ থেকে ক্লিয়ার জানতে চাইলাম আলোচনা তো হলো সিদ্ধান্ত কি আপনারা শুনেছেন আমি প্রথমে যে সঠিক তথ্য দেননি আইনমন্ত্রী সেটা আমি বলেছি ওটার প্রতিবাদ করেছি এরপরে আমি জানতে চেয়েছি যে এটার স্পষ্ট কি পাইলাম আমরা এখান থেকে তিনি কিছু রেফারেন্স টেনে অতীতের এই মূলতবি প্রস্তাবের কি অবস্থা হয়েছে সেটা উনি বর্ণনা করেন মাত্র তিনটা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল বলে সংসদকে তিনি অবৈধ করে বললেন যে এই প্রস্তাবটাও গ্রহণ করা হয়নি। এটা আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। আমরা তখন বললাম যে আমরা তো সংকটের প্রতিকার চেয়েছিলাম। সংকট সৃষ্টি করতে এখানে আসি। কিন্তু আমরা খুবই আশাহত হলাম জাতির দেওয়া এই ম্যান্ডেটটাকে বেমালুম অগ্রাহ্য করা হলো, অপমান করা হলো। আমরা সেই গণভুটকে জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায় এবং রায়কে আমরা অমরা এবং অগ্রাহ্য করতে পারি না অসম্মান করতে পারি না। এইজন্য তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াক আউট করছি।

তখন তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবার সাথে সাথে বললেন যে এই সংক্রান্ত আরেকটা নোটিস মূলতবি প্রস্তাব হিসেবে এসেছে। সেইটা আমরা আজকে আলোচনা করব। আপনারা মেহেরবানী করে ওয়াকআউট না করে ওইটাতে অংশগ্রহণ করেন। মন খুলে কথা বলেন। স্পিকার মহোদয় ছিলেন না। যেদিন এই নোটিসটা উত্থাপন হয়। তিনি তার স্ত্রীর ইন্তেকাল জনিত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। সেইদিনই কিন্তু নোটিসটা উত্থাপন হয়েছে। তা আমি তখন জবাবে বললাম যে নোটিসটা দেওয়া হয়েছে মূলত জনগণের অভিপ্রায়কে চাপা দেওয়ার জন্য এটা পরিকল্পিত একটা নোটিস। আমরা ওটারও প্রতিবাদে এই দুইটার প্রতিবাদে আমরা এখন ​ওয়াক আউট করছি। আমাদের পথে এটি ছিল। আমরা খুবই বিশিত, আহত,মর্মাহত। এর আগে তিনটা গণভোট বাংলাদেশে হয়েছে। কোন গণভোট এইভাবে শেষ হয়ে যায়নি। তিনটার তিনটাতেই গণ জনগণের দেওয়ার রায় অনুযায়ী জনগণ পরবর্তী সুযোগ পেয়েছে। এই প্রথম যেটাতে আমরা সবাই সরকারি দল বিরোধী দল সবাই আমরা একমত ছিলাম। সবাই চাইলাম সবাই এর পক্ষে ভোট চাইলাম। এখানে এসে এটাকে অগ্রাহ্য করা হলো, অমান্য করা হল। এবং এটাকে শেষ করে দেওয়া হল। কার্যত জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায় যেটাকে সংবিধানের চূড়ান্ত জায়গায় স্থান দেওয়া হয়েছে সেইটাকেই কিন্তু লঙ্ঘন করা হল আমরা এই অবস্থা মেনে নেইনি আমরা জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতি সম্মান দেখি আমরা ওয়াকআউট করেছি আমরা চেয়েছিলাম আন্তরিকভাবে এখানেই হাউজের ভিতরে তার সমাধান হোক হাউজের ভিতরে সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো। গতদিন আমরা অনুরোধ করেছিলাম যে আমিও বললাম, আপনিও বললেন, আমরা বললাম,আপনারা বললেন।

এখন আমরা আলাদা হয়ে গেলাম কেন? আসেন আমরা জনগণের চূড়ান্ত রায়টাকে আমরা সম্মান করি। তাহলে এই মহান সংসদ আরো বেশি সম্মানিত হবে। আপনারা শুনেছেন আমার এই আহবান। কিন্তু না এই আহবানের প্রতি তারা সম্মান প্রদর্শন করেননি। তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখন যেহেতু হাউজের ভিতরে জনগণের এই অভিপ্রায়ের বিষয়টা সেইভাবে সম্মানিত এবং গৃহীত হলো না। আমাদের জন্য এখন পথ একটাই। আবার আমাদেরকে জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে। যেই জনগণ আমাদেরকে এই রায় দিয়েছিল আমরা এখন সেই জনগণের কাছেই ফিরে যাব ইনশল্লাহ। এবং জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা এই গণভোটের যে দাবি এই দাবি কিভাবে আদায় করা যায় সেই কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করব। এই ক্ষেত্রে অতীতে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে আমরা দেশবাসীকে পেয়েছি দেখেছি। এবারও আমরা গভীরভাবে আশা রাখি দেশবাসী আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশল্লাহ।

সাংবাদিক বন্ধুগণ অতীতেও ন্যায্য সমস্ত বিষয়াবলীতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এটা কোন দলের দাবি না। এটা কোন গোষ্ঠীর দাবি না। এটা কোন ব্যক্তি স্বার্থ সংরক্ষণের দাবি না। এটা ছিল মূলত যে সমস্ত সাংবিধানিক কথা বলে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের উপরে দুর্নীতি এবং দুঃশাসনের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। ওই জায়গাগুলো আমরা চেয়েছিলাম বন্ধ হোক। জুলাই সনদ সেখানে বর্তমান সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ডিসেন্ট আছে তারা ডিসেন্ডিং অপিনিয়ন দিয়েছেন তারা কি করবেন এটা তাদের ব্যাপার কিন্তু জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা দেশের রাজনৈতিক চরিত্রের পরিবর্তনের এই আকাঙ্ক্ষা এই আকাঙ্ক্ষা থাকবে নিয়মমাফিক চলতে দেওয়া হলো না। এটাই জাতির জন্যে আমাদের জন্য কষ্টের জায়গা। আর এই সংসদের জন্য এটা দুর্ভাগ্যের জায়গা।। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনারা জানেন ১১ টি দল আমরা নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

আমাদের দুইটা মেজর দাবি ছিল। একটা হলো সুশাসন। ন্যায়বিচার। আরেকটা ছিল দুর্নীতি। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আমরা এখন জনগণের দাবি জনগণের কাছেই নিয়ে যাব। যেহেতু এখানে আমরা পারলাম না আদায় করতে। আমরা ইনশাআল্লাহ জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। আপনারা সঙ্গে থাকবেন। আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আজকে কষ্ট করে এখানে থাকার জন্য। আমাদেরকে কাভার করার জন্য আমাদেরকে শোনার জন্য। নিউজটির জন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা আরও কোনো এডিট করার প্রয়োজন থাকলে বলতে পারেন, আমি এখনই করে দিচ্ছি!

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!