মিজানূর রহমান আজহারির অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল সম্পর্কে প্রচারিত খবরটি ভূয়া। হলুদ সাংবাদিকতা আজ চরমে

Khomota
0
মিজানূর রহমান আজহারির, mizanur rahman azhari Australian visa cancel
সত্যতা যাচাই না করে কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ পরিবেশন করা হলুদ সাংবাদিকতারই নামান্তর। আর এই ব্যাধিতে দেশের কিছু প্রথম সারির গণমাধ্যম কতটা আক্রান্ত, তা আবারও প্রমাণ হলো জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিলের কথিত খবর প্রকাশের মাধ্যমে।

সম্প্রতি কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করে যে, তথাকথিত 'বিতর্কিত ও ইহুদি বিদ্বেষী' মন্তব্যের জেরে মাওলানা আজহারীর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। কোনো কোনো পত্রিকা তো এক ধাপ এগিয়ে তাকে দেশটিতে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করা হয়েছে বলেও মুখরোচক সংবাদ ছেপেছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো— এই পুরো খবরটিই ছিল একদম ভূয়া, ভিত্তিহীন এবং চরম বিভ্রান্তিকর।

স্বয়ং মিজানুর রহমান আজহারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সত্যটি তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি গত ৫ দিন ধরে নির্বিঘ্নে অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছেন এবং তার সফর বাতিলের খবরটি স্রেফ অপপ্রচার। তিনি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এখনও সেখানে কোনো বক্তব্যই দেননি! ফলে বক্তব্য দেওয়ার কারণে ভিসা বাতিল হওয়ার প্রশ্নটি তোলা হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

একটি গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ক্লিকবাজি আর ভিউ ব্যবসার সস্তা প্রতিযোগিতায় নেমে আমাদের দেশের অনেক গণমাধ্যম এখন দায়িত্বশীলতার ন্যূনতম সীমারেখাও লঙ্ঘন করছে। মিজানুর রহমান আজহারীর মতো কোটি অনুসারী থাকা একজন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে একটি স্পর্শকাতর নিউজ করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা আজহারীর নিজের বক্তব্য নেওয়ার কোনো প্রয়োজনই মনে করেনি পত্রিকাগুলো।ব্রিটিশ একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বা বিশেষ কোনো মহলের সুতোয় বাধা পুতুলের মতো সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে যেভাবে নিউজটি কপি-পেস্ট করে প্রচার করা হয়েছে, তা রীতিমতো ক্ষমার অযোগ্য। একজন মানুষের সম্মানহানি করা কি সংবাদমাধ্যমের কাজ?

এই ঘটনা দেশের সাংবাদিকতার মানের চরম অবক্ষয়কে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি তথ্যের নামে অপতথ্য ছড়ানোর প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্সও যেন পেয়ে গেছে কিছু গণমাধ্যম। একটি আন্তর্জাতিক সফরের মাঝে একজন ধর্মীয় বক্তার নামে এমন বানোয়াট খবর প্রচার কেবল তার ব্যক্তি মর্যাদাই ক্ষুণ্ন করে না, বরং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও তলানিতে নিয়ে ঠেকায়।

সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যে 'এডিটিং প্যানেল' বা 'গেটকিপিং' ব্যবস্থা থাকার কথা, তা আজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আজহারীর এই ঘটনা দেশের সচেতন নাগরিকদের মনে একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেল— গণমাধ্যমের এই চরম উদাসীনতা আর কতদিন মুখ বুজে সহ্য করতে হবে? ​হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করে অবিলম্বে ওইসব গণমাধ্যমের উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। তা না হলে পাঠক ও দর্শক কেবল এসব গণমাধ্যম থেকে মুখই ফিরিয়ে নেবে না, বরং তীব্র গণঘৃণার মুখে পড়তে হবে এই "কপি-পেস্ট" সাংবাদিকদের।

দৈনিক ইত্তেফাক নিউজ:
Daily ittefaq false news, mizanur rahman azhari false news

মিজানুর রহমান আজহারির ভেরিফাইড ফেসবুকের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

mizanur rahman azhari facebook post

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!