​অবশেষে ইউটিউবে ফ্রি পিকচার-ইন-পিকচার: মাল্টিটাস্কিংয়ে নতুন সুবিধা

ইউটিউব ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে এলো পিকচার-ইন-পিকচার (PiP) মোড। এখন অ্যাপের বাইরেও দেখা যাবে ভিডিও। জানুন এই নতুন ফিচারের সুবিধা, সীমাবদ্ধতা...
ইউটিউবে ফ্রি পিকচার-ইন-পিকচার
অবশেষে ইউটিউবে ফ্রি পিকচার-ইন-পিকচার

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রেয়া ঘোষ
​দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য পিকচার-ইন-পিকচার (PiP) ফিচার চালু করেছে ইউটিউব। এখন অ্যাপ থেকে বের হয়েও ভিডিও দেখা যাবে ছোট ভাসমান উইন্ডোতে। তবে মিউজিক কনটেন্টে এই সুবিধা এখনো সীমাবদ্ধ থাকছে, যা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

​অবশেষে জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম YouTube ব্যবহারকারীদের একটি দীর্ঘদিনের চাওয়া পূরণ করেছে। বিশ্বজুড়ে ধীরে ধীরে চালু করা হচ্ছে পিকচার-ইন-পিকচার বা পিআইপি মোড, যা এতদিন মূলত প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। এই আপডেটের ফলে ফ্রি ব্যবহারকারীরাও এখন এমন একটি সুবিধা পাবেন, যা তাদের দৈনন্দিন স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ এবং কার্যকর করে তুলবে।

​কী এই পিআইপি ফিচার

​পিকচার-ইন-পিকচার বা পিআইপি হলো এমন একটি ফিচার, যার মাধ্যমে একটি ভিডিও ছোট একটি ভাসমান উইন্ডোতে চলতে থাকে, আর ব্যবহারকারী একই সঙ্গে অন্য অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ, আপনি যদি ভিডিও দেখার সময় হঠাৎ করে মেসেজের উত্তর দিতে চান বা কোনো কিছু সার্চ করতে চান, তাহলে আর ভিডিও বন্ধ করতে হবে না। এটি ছোট একটি মিনিপ্লেয়ারে রূপ নিয়ে স্ক্রিনের এক পাশে চলতে থাকবে।

​অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে একসঙ্গে সুবিধা

​নতুন আপডেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ নয়। Android এবং iOS, উভয় ডিভাইসেই ফ্রি ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাবেন। আগে এই সুবিধা পেতে হলে ব্যবহারকারীদের প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিতে হতো। কিন্তু এখন সাধারণ ব্যবহারকারীরাও অ্যাপ থেকে বের হয়ে ভিডিও চালু রাখতে পারবেন।

​যেখানে সীমাবদ্ধতা থাকছে

​তবে সব কনটেন্টের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। বিশেষ করে মিউজিক সংক্রান্ত ভিডিওগুলোতে পিআইপি মোড কাজ করবে না। এর মধ্যে রয়েছে অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও, আর্ট ট্র্যাক বা কিডস সং। এই সুবিধা এখনো প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
মাল্টিটাস্কিংয়ের নতুন দিগন্ত: গুগলের আরও কিছু আসন্ন ফিচার
​ইউটিউবের এই পিআইপি সুবিধার পাশাপাশি গুগল তাদের ইকোসিস্টেমে আরও কিছু বৈপ্লবিক ফিচার যুক্ত করতে যাচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। নিচে এই নিউজের সাথে সম্পর্কিত আরও কিছু আপকামিং টেকনোলজি তুলে ধরা হলো:
  • ​জেমিনি এআই-এর 'স্মার্ট সাইডবার' ইন্টিগ্রেশন ​গুগল বর্তমানে তাদের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে জেমিনি এআই-কে এমনভাবে যুক্ত করছে যাতে ইউটিউব ভিডিও দেখার সময় আপনি পাশে থাকা এআই উইন্ডোকে ভিডিওর বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। ধরুন, আপনি একটি রান্নার ভিডিও দেখছেন; পিআইপি মোডে ভিডিওটি চালু রেখেই আপনি এআই-কে বলতে পারবেন ভিডিওতে বলা উপকরণের একটি লিস্ট তৈরি করে দিতে। এটি মাল্টিটাস্কিংকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাবে।
  •  ​ভিডিওর ভেতরেই 'সার্কেল টু সার্চ' (Circle to Search) ​গুগলের আপকামিং ফিচারে ইউটিউব ভিডিও চলাকালীন যেকোনো বস্তুর ওপর শুধু গোল দাগ দিলেই সেই পণ্য বা বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চলে আসবে। পিআইপি মোড এবং এই সার্চ ফিচারের সমন্বয় ব্যবহারকারীদের কেনাকাটা বা তথ্য খোঁজার অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি মসৃণ করবে। ভিডিও না থেমেই আপনি জেনে নিতে পারবেন ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা সুন্দর ঘড়িটি কোন ব্র্যান্ডের। ​
  • রিয়েল-টাইম ট্রান্সলেশন এবং ক্যাপশন ​গুগল তাদের লাইভ ক্যাপশন ফিচারটিকে আরও উন্নত করছে। এখন থেকে ইউটিউবের ছোট ভাসমান উইন্ডো বা পিআইপি মোডেও সরাসরি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ (Live Translation) দেখা যাবে। এর ফলে বিদেশি ভাষার কোনো টিউটোরিয়াল দেখার সময় ব্যবহারকারী অন্য অ্যাপে কাজ করার পাশাপাশি নিজ ভাষায় ভিডিওর সারমর্ম বুঝে নিতে পারবেন। ​
  • ইন্টেলিজেন্ট সাউন্ড ব্যালেন্সিং ​ইউটিউবে মাল্টিটাস্কিং করার সময় অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের অন্যান্য অ্যাপের শব্দের কারণে ভিডিওর শব্দ শুনতে সমস্যা হয়। গুগল একটি নতুন 'অডিও ফোকাস' ফিচার নিয়ে কাজ করছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিআইপি উইন্ডোর আওয়াজ এবং অন্য অ্যাপের নোটিফিকেশন সাউন্ডের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে। ​
​ইউটিউবের এই পদক্ষেপ দেরিতে হলেও ইতিবাচক। কারণ এটি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করবে এবং প্রতিযোগিতার বাজারে প্ল্যাটফর্মটিকে আরও এগিয়ে রাখবে। তবে একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, অনেক সময় প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার চেয়ে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তই বড় ভূমিকা রাখে।

গুগলের আসন্ন এআই ফিচারগুলো যদি এই পিআইপি মোডের সাথে কার্যকরভাবে যুক্ত হয়, তবে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি হবে এক নতুন বিপ্লব। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে মিউজিক ভিডিওর সীমাবদ্ধতাগুলোও তুলে দেওয়া হয় কি না।