আওয়ামী লীগ ‘পুনর্বাসন’ বিতর্ক: জনগণ শেষ পর্যন্ত কাকে বিশ্বাস করবে?
আজ দেশের রাজনীতিতে একই সময়ে দুটি বিপরীত ছবি দেখা যাচ্ছে।
একদিকে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আমার দেশ দাবি করছে, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নাশকতা, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, টার্গেট কিলিং, উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং ছাত্র ও পেশাজীবীদের আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির ভেতর থেকেই আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের নিয়ে এমন কিছু বক্তব্য আসছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রশ্ন তৈরি করছে।
সুনামগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী সম্প্রতি প্রকাশ্য সমাবেশে বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির “শত্রু নয়”, “মিত্র”; এমনকি অচিরেই আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। বক্তব্যটি একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার ও সমর্থকদের উদ্দেশে অত্যন্ত আশ্বাসমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঠাকুরগাঁওয়ে তিনি নৌকার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “ধানের শীষ আপনাদের সঙ্গে আছে” এবং বিএনপি বেঁচে থাকতে তাঁদের গায়ে কেউ “ফুলের টোকাও” দিতে পারবে না।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যেসব সমর্থক কোনো অন্যায় করেননি, বিএনপি তাঁদের পাশে থাকবে।
এখন সাধারণ মানুষের সামনে প্রশ্নটি তাই খুব স্বাভাবিক:
একদিকে যদি আওয়ামী লীগের একটি অংশকে ঘিরে রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতার গুরুতর অভিযোগ উঠে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যদি আওয়ামী লীগকে “মিত্র” বলেন বা তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের ভাষা ব্যবহার করেন—তাহলে জনগণ আসলে কোন বার্তাটি বিশ্বাস করবে?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। কারণ এখানে মানবিকতা, গণতন্ত্র, বিচার, রাজনৈতিক কৌশল এবং ক্ষমতার হিসাব—সবকিছু একসঙ্গে মিশে গেছে।
আগে পরিষ্কার হওয়া দরকার: অভিযোগ এখনো অভিযোগই
আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে যে বিশাল নাশকতার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে কথিত দিল্লি বৈঠক, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড ব্যবহার, জেএমবি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষে অনুপ্রবেশ, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো এবং পেশাজীবীদের স্বাভাবিক আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা।
অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর।
কিন্তু একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটিতেই বলা হয়েছে, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সুতরাং দায়িত্বশীল বিশ্লেষণে শেখ হাসিনা বা প্রতিবেদনে উল্লেখিত অন্য ব্যক্তিদের এসব কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে এখনই নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা যাবে না।
নির্ভরযোগ্য তদন্ত, ডিজিটাল প্রমাণ, যোগাযোগের রেকর্ড, অর্থের লেনদেন, অস্ত্র বা বিস্ফোরকের উৎস কিংবা আদালতে গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো প্রমাণ সামনে এলে বিষয়টি অন্য জায়গায় যাবে।
ততক্ষণ পর্যন্ত এগুলো গোয়েন্দা সূত্রভিত্তিক গুরুতর অভিযোগ।
তবে এই সতর্কতা মানে নিরাপত্তা ঝুঁকিকে হালকাভাবে নেওয়াও নয়।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে দেওয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করার পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের সরকার ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতি কূটনৈতিক অসন্তোষও জানিয়েছে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন নিছক তাত্ত্বিক প্রশ্ন নয়। এটি আবারও বাস্তব রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: ভোটারকে রক্ষা করা আর দলকে পুনর্বাসন করা এক নয়
এই জায়গাতেই আলোচনাটি সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
একজন মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন—এটা কোনো অপরাধ নয়।
কেউ আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থক ছিলেন—সেটিও অপরাধ নয়।
কেউ কোনো অপরাধে যুক্ত না থাকলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁর বাড়ি আক্রমণ করা, ব্যবসা দখল করা, মারধর করা অথবা মামলা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এই জায়গা থেকে মির্জা ফখরুল যখন বলেন, নিরপরাধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পাশে বিএনপি থাকবে অথবা তাঁদের গায়ে “ফুলের টোকাও” দিতে দেওয়া হবে না—তখন সেটিকে আইনের শাসনের একটি ইতিবাচক অবস্থান হিসেবেও দেখা যায়।
কারণ ১৫ বছরের অন্যায়ের প্রতিক্রিয়া যদি আরেকটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের যুগ তৈরি করে, তাহলে বাংলাদেশ কোনো পরিবর্তনই করতে পারবে না।
কিন্তু সমস্যাটি শুরু হয় অন্য জায়গায়।
সাধারণ আওয়ামী লীগ ভোটারকে নিরাপত্তা দেওয়া এক বিষয়।
আর বিচার ও জবাবদিহির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোকে নতুন নামে, নতুন জোটে অথবা অন্য দলের ছাতার নিচে পুনর্বাসন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
এই দুই বিষয়কে এক করে ফেললে জনমনে সন্দেহ তৈরি হবেই।
নাছির চৌধুরীর বক্তব্যে তাই প্রশ্ন আরও বড়
নাছির উদ্দীন চৌধুরী শুধু আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তার কথা বলেননি।
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির শত্রু নয়—“মিত্র”; এমনকি আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথাও বলেছেন।
এটি আর শুধু নাগরিক নিরাপত্তার বক্তব্য নয়।
এটি একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা।
সেখানেই সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করতে পারে—কিসের ভিত্তিতে এই মিত্রতা?
গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক সংঘাত কোথায় গেল?
বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীর মামলা, কারাবরণ ও দমন-পীড়নের অভিযোগ কোথায় গেল?
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এতদিনের অভিযোগের মূল্য কী?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জুলাই ২০২৪-এর ঘটনাগুলোর বিচার সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি রাজনৈতিক পুনর্মিলন শুরু হয়, তাহলে যারা জীবন দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কাছে এর ব্যাখ্যা কী হবে?
এসব প্রশ্ন তোলা আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ চাওয়ার সমান নয়।
বরং প্রশ্নটি রাজনৈতিক জবাবদিহির।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যগুলো পাশাপাশি রাখলে ছবিটি আরও জটিল
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের আরেকটি দিকও রয়েছে, যা বাদ দিলে বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ হবে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, শেখ হাসিনা যেভাবে প্রতিপক্ষকে নির্বাচনের বাইরে রেখেছিলেন, নতুন বাংলাদেশে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়।
আবার ২০২৫ সালের নভেম্বরে নৌকার সমর্থকদের তিনি আশ্বাস দেন—ধানের শীষ তাঁদের পাশে থাকবে এবং তাঁদের গায়ে কেউ ফুলের টোকাও দিতে পারবে না।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বলেন, আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থকদের পাশে থাকবে বিএনপি।
কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের অফিস খোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনিই আবার বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ এবং বিষয়টিকে সেই আইন অনুযায়ী দেখতে হবে।
অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যগুলোর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রেখা দেখা যায়:
সাধারণ আওয়ামী লীগ ভোটারকে শত্রু না ভাবা—হ্যাঁ।
আইন অমান্য করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো—না।
এই পার্থক্যটি যদি বিএনপি জনগণের কাছে পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারে, তাহলে বিভ্রান্তি অনেকটাই কমতে পারে।
কিন্তু বিএনপির একজন সংসদ সদস্য যখন তার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে আওয়ামী লীগকে সরাসরি “মিত্র” এবং ভবিষ্যতে বিএনপির সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা বলেন, তখন সেই সীমারেখাটি ঝাপসা হয়ে যায়।
জনগণের ভয় আসলে কোথায়
বাংলাদেশের মানুষের একটি বড় অংশের ভয় আওয়ামী লীগের কোনো সাধারণ সমর্থককে নিয়ে নয়।
ভয় হলো—পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে কি না।
জুলাই আন্দোলনের পর সাধারণ মানুষের একটি অংশ এমন একটি বাংলাদেশ আশা করেছিল, যেখানে আর—
- ক্ষমতার জোরে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ হবে না,
- রাজনৈতিক পরিচয়ে মামলা হবে না,
- বিরোধী মত দমন করা হবে না,
- পুলিশ ও প্রশাসন কোনো দলের ব্যক্তিগত বাহিনীতে পরিণত হবে না,
- গুম-খুনের অভিযোগ ধামাচাপা পড়বে না,
- এবং ক্ষমতাবানদের অপরাধ রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে মাফ হয়ে যাবে না।
এখন যদি মানুষ দেখতে শুরু করে যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো শক্তির সঙ্গে নতুন সমঝোতা তৈরি হচ্ছে, তাহলে তাদের মনে একটি ভয়ংকর ধারণা জন্ম নিতে পারে—
“তাহলে কি সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার খেলা?”
এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক অনুভূতি।
মানুষের বিশ্বাস একবার ভাঙলে তার মূল্য অনেক বড়
ধরুন একজন সাধারণ বিএনপি কর্মী ১৫ বছর ধরে মামলা-মোকদ্দমা, হয়রানি বা রাজনৈতিক বাধার অভিযোগ নিয়ে বেঁচে ছিলেন।
অন্যদিকে একজন তরুণ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন।
তিনি হয়তো বিএনপির সদস্যও ছিলেন না।
তাঁর চাওয়া ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা।
এখন যদি তিনি দেখেন ক্ষমতায় যাওয়ার পর পুরোনো দলগুলোর নেতারা নিজেদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া শুরু করছেন, তাহলে তাঁর মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে—
“আমাদের আত্মত্যাগ কি শুধু একদলকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল?”
এই প্রশ্নটিই বিএনপির জন্য সম্ভবত সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা।
কারণ ক্ষমতা হারিয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব।
একটি নির্বাচন হারিয়েও পরবর্তী নির্বাচন জেতা সম্ভব।
কিন্তু জনগণের বিশ্বাস হারালে সেটি ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন।
আবার বিপরীত ভুলটিও করা যাবে না
এখানে আওয়ামী লীগবিরোধী আবেগের কারণে আরেকটি বিপজ্জনক ভুল করা যাবে না।
কোনো দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে অন্যায় করেছে—এই অভিযোগের কারণে সেই দলের প্রত্যেক ভোটার অপরাধী হয়ে যায় না।
একজন কৃষক আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন।
একজন শিক্ষক আওয়ামী লীগ সমর্থন করেছেন।
কেউ পারিবারিক কারণে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন।
তাঁদের প্রত্যেককে যদি অপরাধী হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে আরেকটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের ব্যবস্থা তৈরি হবে।
আজ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হলে কাল অন্য কারও বিরুদ্ধে একই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
তখন জুলাইয়ের পরিবর্তনের বদলে আমরা শুধু নির্যাতনকারীর পরিচয় বদলাব।
রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাবে না।
তাই বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সাধারণ সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেটিকে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখা উচিত।
কিন্তু একই সঙ্গে অপরাধে অভিযুক্ত নেতা, দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখা ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপব্যবহারের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্ন আলাদা থাকতে হবে।
জিয়াউর রহমান ও শেখ হাসিনার ১৯৮১ সালের ইতিহাস নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন
এই বিতর্কে আরেকটি ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ প্রায়ই আসে।
জিয়াউর রহমানের আমলে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিস্তৃত হয় এবং ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী শক্তিগুলোর একটি হিসেবে ফিরে আসে।
শেখ হাসিনা দীর্ঘ প্রবাস শেষে ১৭ মে ১৯৮১ বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
এর ঠিক ১৩ দিন পর ৩০ মে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানচেষ্টার মধ্যে নিহত হন।
এ দুটি ঘটনা সময়ের দিক থেকে খুব কাছাকাছি—এটি সত্য।
এবং বিএনপির কিছু নেতা অতীতেও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও জিয়ার হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্রের প্রশ্ন তুলেছেন।
কিন্তু এখানে ইতিহাসকে রাজনৈতিক আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেওয়া ঠিক হবে না।
শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেই জিয়াউর রহমান নিহত হয়েছেন—এমন কারণগত সম্পর্ক প্রমাণিত নয়।
জিয়ার হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল সেনাবাহিনীর একটি অংশের বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থানচেষ্টার প্রেক্ষাপটে।
তাই ১৯৮১ সালের ঘটনা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি রাজনৈতিক সতর্কতার উদাহরণ হতে পারে—কিন্তু আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করলে একই ঘটনা ঘটবে, এমন প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
বরং ইতিহাস থেকে বড় শিক্ষা অন্য জায়গায়:
রাজনৈতিক উদারতার পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনও প্রয়োজন।
নাশকতার অভিযোগ সত্য হলে ‘পুনর্বাসন’ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে
এখন আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে আসা যাক।
যদি তদন্তে সত্যিই প্রমাণিত হয় যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো নেটওয়ার্ক পরিকল্পিতভাবে ককটেল হামলা, অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে, তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যে কোনো ধরনের পুনর্বাসনের আলোচনা আরও জটিল হয়ে যাবে।
কারণ তখন প্রশ্ন উঠবে—
একটি নেটওয়ার্ক যদি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, সেই একই সময়ে তার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ তৈরি করা কতটা যৌক্তিক?
তবে উল্টো দিকটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কেবল গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সব ভোটার, সব সাবেক কর্মী বা সব সমর্থককে “নাশকতাকারী” ঘোষণা করলে সেটিও অন্যায় হবে।
প্রমাণ যার বিরুদ্ধে, ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে।
এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের নীতি।
সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি: রাজনৈতিক সমঝোতায় অপরাধের বিচার হারিয়ে যাওয়া
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে—ক্ষমতা বদলালে অপরাধের বিচারও রাজনৈতিক রং বদলায়।
এক সরকার আগের সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে।
পরবর্তী সরকার এসে নিজের লোকের মামলা তুলে নেয়।
এভাবে বিচারব্যবস্থা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়।
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ যদি আবার একই পথে যায়, তাহলে সবচেয়ে বড় পরাজয় হবে এখানেই।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।
জাতীয় পুনর্মিলনও একদিন প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু পুনর্মিলন আর দায়মুক্তি এক জিনিস নয়।
কেউ অপরাধ না করলে তাঁকে নিরাপত্তা দিতে হবে।
আর কেউ গুরুতর অপরাধ করে থাকলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তাঁকে বিচার মোকাবিলা করতে হবে।
এই নীতির ওপর দাঁড়ালেই কেবল দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় সমঝোতা সম্ভব।
বিএনপির সামনে তাই তিনটি পথ
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির সামনে মূলত তিন ধরনের রাজনৈতিক পথ রয়েছে।
প্রথম পথ—আওয়ামী লীগের সবকিছুকে শত্রু হিসেবে দেখা।
এটি সহজ রাজনৈতিক পথ হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক। এতে লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন এবং প্রতিশোধের রাজনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
দ্বিতীয় পথ—ভোটের হিসাবের জন্য দ্রুত আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিকে নিজেদের মধ্যে টেনে নেওয়া।
স্বল্পমেয়াদে এতে বিএনপির ভোট বাড়তে পারে। কিন্তু যদি বিচার ও জবাবদিহির আগে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে জুলাই-পরবর্তী প্রজন্মের বড় অংশের বিশ্বাস হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
তৃতীয় পথ সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন কিন্তু সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ—
আওয়ামী লীগের সাধারণ নাগরিক ও নিরপরাধ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; কিন্তু গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার চলতে দেওয়া এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ আইনি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করা।
এতে প্রতিশোধও হবে না, আবার দায়মুক্তিও হবে না।
জনগণের দৃষ্টিতে বিএনপির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখানেই
আজ বিএনপি সরকার পরিচালনা করছে। ফলে বিরোধী দলে থাকার সময় যে নীতি বলা সহজ ছিল, ক্ষমতায় থেকে সেটি বাস্তবায়ন করাই এখন বড় পরীক্ষা।
বিএনপি যদি বলে তারা আওয়ামী লীগের নিরপরাধ ভোটারের নিরাপত্তা দেবে—জনগণ সেটিকে গ্রহণ করতে পারে।
যদি বলে রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য কাউকে নির্যাতন করা হবে না—এটিও নতুন বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
কিন্তু একই সঙ্গে যদি দলের ভেতর থেকে “আওয়ামী লীগ আমাদের মিত্র”, “বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে” ধরনের বক্তব্য আসতে থাকে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তার ব্যাখ্যা না দেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ বাড়বে।
মানুষ জানতে চাইবে—
- বিএনপির প্রকৃত নীতি কোনটি?
- আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারকে রক্ষা?
- নাকি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন?
- নাকি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ভোটের হিসাব?
এই তিনটি বিষয় এক নয়।
বিএনপির দায়িত্ব এগুলো পরিষ্কার করা।
সাধারণ মানুষ এবার শুধু বক্তব্য নয়, কাজ দেখবে
বাংলাদেশের জনগণ বহুবার বড় বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শুনেছে।
- গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি।
- সুশাসনের প্রতিশ্রুতি।
- দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি।
- রাজনৈতিক প্রতিশোধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি।
এবার তাই মানুষ শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেবে না।
তারা দেখবে—
- জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার কোথায় পৌঁছায়।
- গুমের অভিযোগগুলোর তদন্ত কী হয়।
- পুলিশ ও প্রশাসন কতটা দলনিরপেক্ষ হয়।
- নিজেদের দলের অপরাধীর বিরুদ্ধে বিএনপি ব্যবস্থা নেয় কি না।
- আওয়ামী লীগের নিরপরাধ কর্মীকে সত্যিই নিরাপত্তা দেওয়া হয় কি না।
- আবার অপরাধে অভিযুক্ত প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য রক্ষা করা হয় কি না।
এগুলোই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে বর্তমান সরকার এবং বিএনপি জনগণের বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে কি না।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে বাংলাদেশ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া ইতোমধ্যে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে সংবেদনশীল করে তুলেছে। ভারত শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি সামনে রেখেছে।
এই অবস্থায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে নাশকতায় সহযোগিতার মতো অভিযোগ সত্য হলে সেটি অত্যন্ত গুরুতর আন্তর্জাতিক বিষয় হবে।
কিন্তু এত বড় অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করলে সেটিও বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তাই এ ক্ষেত্রেও আবেগ নয়—প্রমাণ দরকার।
স্বল্পমেয়াদে কী দেখা যেতে পারে
আগামী সময়ে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
- আওয়ামী লীগের গোপন বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ে কি না।
- শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কতদূর যায়।
- নাশকতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাস্তব কোনো নেটওয়ার্ক বা পরিকল্পনার প্রমাণ হাজির করতে পারে কি না।
- বিএনপির আরও নেতা নাছির চৌধুরীর মতো আওয়ামী লীগকে “মিত্র” হিসেবে বর্ণনা করেন কি না।
- এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি পরিষ্কার নীতি জনগণের সামনে দেয় কি না।
দীর্ঘমেয়াদে আসল প্রশ্ন আওয়ামী লীগ নয়
বাংলাদেশের আসল সমস্যা শুধু আওয়ামী লীগ নয়।
আসল সমস্যা হলো এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে যে দলই ক্ষমতায় আসে, কয়েক বছর পর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো তার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আজ আওয়ামী লীগ না থাকল।
কাল বিএনপি থাকবে।
পরশু অন্য কোনো দল আসবে।
কিন্তু পুলিশ, প্রশাসন, আদালত, নির্বাচনব্যবস্থা এবং সংসদ যদি স্বাধীন ও শক্তিশালী না হয়, তাহলে শুধু ক্ষমতাসীন দলের নাম পরিবর্তন হবে।
ব্যবস্থা পরিবর্তন হবে না।
জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত সফলতা তাই আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া দিয়ে পরিমাপ করা উচিত নয়।
বরং মাপকাঠি হওয়া উচিত—
ভবিষ্যতে আর কোনো দল শেখ হাসিনার সরকারের মতো অতিরিক্ত ক্ষমতাবান হতে পারবে কি না।
যদি পারে, তাহলে বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান হয়নি।
মূল কথা
আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়িত্ব।
তিনি আওয়ামী লীগ করেছেন বলে তাঁর বাড়ি পোড়ানো, ব্যবসা দখল করা বা তাঁকে মারধর করার কোনো অধিকার কারও নেই।
এই জায়গায় মির্জা ফখরুলের “ফুলের টোকাও দিতে দেব না” ধরনের বক্তব্যকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ ঠেকানোর ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও দেখা সম্ভব।
কিন্তু সেখান থেকে যদি রাজনীতি এমন জায়গায় যায় যেখানে অপরাধ ও জবাবদিহির প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোকে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া শুরু হয়—তাহলে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আর নাছির চৌধুরীর “আওয়ামী লীগ আমাদের মিত্র” এবং “বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে” মন্তব্য সেই প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এনেছে।
জনগণের সবচেয়ে বড় দাবি হওয়া উচিত খুব সাধারণ—
প্রতিশোধ চাই না, কিন্তু বিচার চাই।
সাধারণ কর্মীর নিরাপত্তা চাই, কিন্তু অপরাধীর দায়মুক্তি চাই না।
রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে, কিন্তু জনগণের আত্মত্যাগকে পাশ কাটিয়ে নয়।
আর বিএনপিকেও বুঝতে হবে—জুলাইয়ের পর মানুষ শুধু সরকার পরিবর্তন দেখতে চায়নি।
মানুষ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনও দেখতে চেয়েছে।
যদি পুরোনো রাজনীতির সমীকরণ আবার ফিরে আসে, যদি নীতি ও বক্তব্য ভোটের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে থাকে এবং যদি জনগণের কাছে মনে হয় শেষ পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে একে অন্যকে রক্ষা করে—তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি কোনো একটি দলের হবে না।
ক্ষতি হবে গণতন্ত্রের ওপর মানুষের বিশ্বাসের।
সেই বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে মানুষ পরবর্তী কোনো আন্দোলন, কোনো নির্বাচন কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকেই আগের মতো গুরুত্ব দিতে চাইবে না।
আর একটি দেশের জন্য এর চেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি খুব কমই আছে।
বাংলাদেশের সামনে তাই আজ প্রশ্নটি শুধু—
“আওয়ামী লীগ ফিরবে কি না?”
তার চেয়ে অনেক বড় প্রশ্ন—
“বাংলাদেশ কি এমন একটি রাষ্ট্র তৈরি করতে পারবে, যেখানে নিরপরাধ মানুষ নিরাপদ থাকবে, অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয়ে রক্ষা পাবে না এবং ক্ষমতায় যে দলই থাকুক—জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার ভাঙার আগে তাকে রাজনৈতিক মূল্য দেওয়ার ভয় থাকবে?”
এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে জুলাইয়ের পরিবর্তন একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হয়ে থাকবে, নাকি সত্যিই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের সূচনা হবে।
