পিনাকীর সমালোচনা: পিনাকী এই যুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়নি বলেই ছাত্ররা মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে বিদ্রূপ করে বলেন, বিএনপির আন্দোলন ছিল মূলত "দৌড়ানির আন্দোলন"। তিনি পার্থের পুরনো একটি সাক্ষাৎকার মনে করিয়ে দেন যেখানে পার্থ নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে ১৭ বছর আন্দোলন করেও তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি।
সংবিধান ছুঁড়ে ফেলা বনাম সংবিধান সংস্কার
পার্থের বর্তমান অবস্থান: পার্থ সংসদে বলেছিলেন, "সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় যে এটা ৭১-এর পরাজয়ের দলিল? আমি কেন সংবিধান ছুঁড়ে ফেলব?"পিনাকীর সমালোচনা: পিনাকী দেখান যে, খোদ খালেদা জিয়া এবং পার্থ নিজেও অতীতে এই সংবিধানকে "আওয়ামী লীগের ইশতেহার" বলে ছুঁড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন। পিনাকীর মতে, ১৯৭২-এর সংবিধানের কাঠামোতেই ফ্যাসিবাদের বীজ রয়েছে, তাই এটি সংশোধন নয় বরং পুরোপুরি বাতিল করে নতুন সংবিধান লেখা প্রয়োজন।
পার্থের অবস্থান: পার্থ সংসদে বলেছিলেন যে সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার দরকার নেই, প্রয়োজনে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যেতে পারে।
পিনাকীর পাল্টা যুক্তি: পিনাকী যুক্তি দেন যে বর্তমান সংবিধানের কাঠামো এমনভাবে তৈরি যা বারবার স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। তিনি বলেন, এই সংবিধানে ১২ থেকে ১৪টি মূল অনুচ্ছেদ (যেমন অনুচ্ছেদ ৪৪, ৯৪-১১০, ১৫২ ইত্যাদি) আমূল পরিবর্তন করতে হবে। এত বেশি পরিবর্তনের চেয়ে নতুন সংবিধান লেখাই সহজ ও যুক্তিযুক্ত।
বিপ্লবী সরকার গঠন কেন করা হলো না?
পার্থের প্রশ্ন: পার্থ প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, অভ্যুত্থানের পর কেন একটি "বিপ্লবী সরকার" গঠন না করে সাধারণ "অন্তর্বর্তীকালীন সরকার" করা হলো?পিনাকীর উত্তর: পিনাকী যুক্তি দেন যে, ৫ই আগস্টের পর যখন সরকার গঠনের আলোচনা চলছিল, তখন পার্থ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তখন কেন তারা বিপ্লবী সরকারের দাবি তোলেননি? এখন হাত ধুয়ে ফেলা বা দায় এড়ানো রাজনৈতিক ভণ্ডামি।
আবু হেনা রাজ্জাকী আন্দালিব রহমান পার্থর "৩০০ রানের" যুক্তির বিপরীতে যে পয়েন্টগুলো তুলে ধরেছেন, তা হলো:
জয়সূচক রানের গুরুত্ব
রাজ্জাকী বলেন, ক্রিকেটে কোনো দল আগে অনেক রান (যেমন ৩০০ রান) করলেও যদি শেষ পর্যন্ত ম্যাচ না জেতে, তবে সেই রানের কোনো মূল্য নেই। ম্যাচের আসল হিরো সেই ব্যক্তি, যে শেষ বলে চার বা ছয় মেরে জয় নিশ্চিত করে। অর্থাৎ, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যারা চূড়ান্ত বিজয় এনেছে, কৃতিত্ব তাদেরই।ফুটবলের উদাহরণ (গোল বনাম নিয়ন্ত্রণ)
তিনি ফুটবলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি দল পুরো মাঠ ৯০ মিনিট নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু অন্য দল যদি দুটি সুযোগ পেয়ে দুটি গোল দিয়ে দেয়, তবে তারাই বিজয়ী। এখানে মাঠ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে গোল দেওয়াটাই আসল।আওয়ামী লীগের ক্ষমতা প্রসঙ্গে রাজ্জাকি
যদি জুলাই মাসের ওই "জয়সূচক রান" (ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান) না হতো, তবে আওয়ামী লীগ এখনো ক্ষমতায় থাকতো এবং ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতো আর আপনারা আরও ১০০ রান করতেন। তাই আগে কত রান করা হয়েছে তার চেয়ে বড় কথা হলো রেজাল্ট কী এসেছে।১৯৭২ সালের সংবিধান সম্পর্কে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বক্তব্য
ব্যারিস্টার ফুয়াদ যুক্তি দেন যে, ১৯৭২ সালের সংবিধান যারা তৈরি করেছিলেন, তারা মূলত ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের আইনি কাঠামোর অধীনে নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তারা পাকিস্তানের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন। তাই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো ম্যান্ডেট বা গণপরিষদ নির্বাচন ছাড়া তাদের তৈরি করা এই সংবিধানকে তিনি "অবৈধ দলিল" (Inlegitimate Document) হিসেবে অভিহিত করেছেনজনগণের সম্মতির অভাব (Lack of Public Mandate)
তিনি বলেন, এই সংবিধান তৈরির পর কোনো গণভোট (Referendum) বা জনগণের সম্মতি নেওয়া হয়নি। পৃথিবীর কোথাও জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া সংবিধান হয় না, কিন্তু বাংলাদেশে সেটি তৃতীয় প্রজন্মের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।ভারতের সংবিধানের কপি পেস্ট
ব্যারিস্টার ফুয়াদ দাবি করেন, এই সংবিধানের অনেক অংশ ভারতের সংবিধান থেকে হুবহু (শব্দে, কমা-সেমিকোলনসহ) নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় আইনজীবীরাই এটি তৈরি করে দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়।বর্তমান সংবিধান বাকশাল ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি
তিনি যুক্তি দেন যে, ১৯৭২-এর সংবিধানই শেখ মুজিবকে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে 'বাকশাল' গঠন করার এবং সকল রাজনৈতিক দল ও পত্রিকা নিষিদ্ধ করার সুযোগ করে দিয়েছিল। অর্থাৎ, এই সংবিধানের ভেতরেই স্বৈরতন্ত্রের বীজ লুকানো ছিল।৭২ এর সংবিধান সম্পর্কে শিশির মনিরের বক্তব্য

