ধামরাইয়ে ৭ বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে মারধর, চোখে দেওয়া হয়েছে ‘সুপার গ্লু’

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ঢাকার উপকণ্ঠ ধামরাইয়ে এক সাত বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে মারধর ও চোখে ‘সুপার গ্লু’ লাগিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে ধামরাই থানার কুলা ইউনিয়ন সংলগ্ন জয়পুরা বাজার এলাকার আলাদিন’স পার্কের সামনে থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জয়পুরা বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে এক শিশুকে আর্তনাদ করতে দেখেন পথচারীরা। শিশুটি চিৎকার করে বলছিল, “আমাকে কেউ বাঁচান, আমি কিছু দেখতে পারছি না।” স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে দেখেন, শিশুটির সারা শরীরে মারধরের চিহ্ন এবং তার দুই চোখের পাতা রাসায়নিক আঠা (সুপার গ্লু) দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। এবং চোখ দিয়ে রক্ত ও পানি ঝরছে।

এ ঘটনায় শিরিনা আক্তার নামে এক পথচারী মানবতার দৃষ্টি স্থাপন করেন। শিশুটির এ অবস্থা দেখে সাথে সাথে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহত শিশুটির নাম মো. ওয়াহেদ। সে সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় মা ও সৎ বাবার সাথে বসবাস করে।

কেন এই নৃশংসতার?

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদ জানায়, তার আপন বোন জামাই রাজ্জাক তাকে বেড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে বেদম মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে দুই চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে দিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায় রাজ্জাক।

তবে কী কারণে এমন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির মা সাহিদা বেগম, যিনি পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক, জানান: "সকালে রাজ্জাক বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আমার ছেলেকে নিয়ে যায়। পরে শুনি সে আমার ছেলের চোখে আঠা লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমি এর বিচার চাই।"

শিশুটির বর্তমান অবস্থা

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদ আল হাসান জানান, শিশুটির চোখের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চোখের ভেতরে রাসায়নিক আঠা থাকায় দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় প্রেরণ করিছি।

আইনি ব্যবস্থা

সাভার মডেল থানার এসআই মুস্তাকিম বিল্লাহ জানান, ঘটনাস্থল ধামরাই থানার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, অপরাধীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলেই মামলা দায়ের করা হবে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাজ্জাক পলাতক রয়েছেন।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: ক্ষমতার আড়ালে থাকা সেই ‘মাস্টারমাইন্ড’ আসলে কে?
আরও পড়ুন →