![]() |
| সংসদে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী |
তালিকায় শীর্ষে ৫ ঋণ খেলাপি বিএনপি পন্থী সাংসদ
টিআইবি’র তথ্যমতে, প্রার্থীদের মধ্যে ঋণের দায়ে সবার উপরে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের প্রার্থী।১. এস. এম. কে একরামুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১): তালিকায় ১ নম্বরে থাকা এই স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা) তার হলফনামায় ৩ হাজার ১৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ দেখিয়েছেন।
২. এস. এম. ফয়সল (হবিগঞ্জ-৪): বিএনপি সমর্থিত এই প্রার্থীর ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
৩. মো. খালেদ হোসেন মাহবুব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩): বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেনের ঘোষিত ঋণ ১ হাজার ৪৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
৪. আফরোজা খানম (মানিকগঞ্জ-৩): বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানমের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৩৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
৫. মো. আব্দুল্লাহ (মুন্সীগঞ্জ-৩): এই বিএনপি প্রার্থীর ঘারে রয়েছে ১ হাজার ১১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার ঋণের বোঝা।
তালিকায় থাকা অন্যান্য হেভিওয়েট প্রার্থীরা হলেন
শীর্ষ পাঁচজনের বাইরেও বিএনপির বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা এই বিশাল ঋণের তালিকায় স্থান পেয়েছেন:খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (সিলেট-১): বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থীর ঘোষিত ঋণ ৮৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
মো. শাহ আলম (গাজীপুর-১): বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত এবং বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই ব্যবসায়ীর ঋণের পরিমাণ ৮২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
কাজী রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী: টিআইবি’র তালিকায় এই তিন নেতার নামও রয়েছে, যাদের প্রত্যেকের ঋণের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা।
গিলে খাচ্ছে ব্যাংকিং খাত, ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘববোয়ালেরা
দেশের ব্যাংক খাত আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, আর এর মূল কারণ হলো ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচার। আজ ০৬ এপ্রিল ২০২৬ অর্থমন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে ২০ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকার পাহাড়সম ঋণের তালিকা প্রকাশ করলেন। অথচ অবাক করার বিষয় হলো, অর্থমন্ত্রীর প্রকাশিত তালিকায় কেবল কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও পর্দার আড়ালে থাকা রাঘববোয়াল বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম রহস্যজনকভাবে উধাও। যখন সাধারণ মানুষ সামান্য ঋণের দায়ে জেল খাটছে, তখন হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারীরা 'লিমিটেড কোম্পানি'র আড়ালে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।জনগণের আমানতের টাকা এভাবে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি হওয়া এবং সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তির বদলে কেবল প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে দায় এড়ানো সরাসরি জনস্বার্থের পরিপন্থী। এই লুকোচুরি সংস্কৃতি প্রমাণ করে যে, দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতার চেয়ে প্রভাবশালীদের রক্ষা করাই এখন মূল নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন প্রকাশ করা হচ্ছেনা পর্দার আড়ালের সেই ঋণ খেলাপি হিরো'দের নাম?
৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ যারা হজম করেছে, তাদের নাম-পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ না করা কেবল ব্যাংকিং খাতের অরাজকতাকেই উসকে দিচ্ছে না, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থার গালে চপেটাঘাত। ব্যাংকিং খাতকে এই 'রক্তশূন্যতা' থেকে বাঁচাতে হলে কেবল তালিকা নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল লুটেরাদের মুখোশ উন্মোচন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সাধারণ জনগণের প্রাণের দাবী।

