দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ সংসদে বিএনপি নেতা এমপি আশরাফ উদ্দিন
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে আবেগঘন ভাষণ দিলেন বিএনপি নেতা এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজাম। দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ, সহ ফ্যাসিবা
![]() |
| সংসদে আবেগঘন ভাষণ দিলেন বিএনপি নেতা এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজাম |
জুলাই বিপ্লবীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান সংসদ
বক্তব্যের শুরুতেই আশরাফ উদ্দিন নিজাম ২০২৪ সালের ‘রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লব’-এর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "আজ আমরা যে মহান সংসদে বসার সুযোগ পেয়েছি, তা অর্জিত হয়েছে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে। আমাদের পরবর্তী ১০০ বছরের প্রজন্ম জানবে যে, এই সংসদের অধিকার ফিরে পেতে তাদের পূর্বপুরুষদের কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।"তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণভবন বা সংসদ ভবনের ভাঙচুর কোনো নির্দিষ্ট দলের কাজ ছিল না; বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। রিকশাচালক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ জনতা—সকলেই এই বিপ্লবের অংশীদার। তিনি আবু সাঈদ, ফাইয়াজ, আকরামদের মতো অকুতোভয় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের বেহেশতের সর্বোচ্চ মাকাম প্রার্থনা করেন।
রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দিতে পারলামনা
বক্তব্যে আশরাফ উদ্দিন নিজাম নিজের সাহসী অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, "সংসদীয় রুলস অফ প্রসিডিউর অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করি, কিন্তু ব্যক্তি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ধন্যবাদ জানাতে পারছি না।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে তার আপসহীন অবস্থান ব্যক্ত করেন।ওয়ান-ইলেভেন ও বেগম খালেদা জিয়ার লড়াই
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি ২০০৭ সালের ‘ওয়ান-ইলেভেন’ পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, সেই কঠিন সময়ে মাত্র ২৯ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে খালেদা জিয়া যেভাবে দল ও গণতন্ত্রকে আগলে রেখেছিলেন, তা আজ ইতিহাসের অংশ। তার ভাষায়, "ম্যাডামের চোখের পানি ও নিঃশ্বাসের শব্দ আমি কাছে থেকে অনুভব করেছি। তিনি কখনোই আপস করেননি।"তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা এই সংসদকে বিরোধী দল দমনের টোকেন হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যুব মহিলা লীগের নেত্রীদের দিয়ে তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলানো হতো বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
