দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ সংসদে বিএনপি নেতা এমপি আশরাফ উদ্দিন

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে আবেগঘন ভাষণ দিলেন বিএনপি নেতা এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজাম। দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ, সহ ফ্যাসিবা
​দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ সংসদে বিএনপি এমপি আশরাফ উদ্দিন
সংসদে আবেগঘন ভাষণ দিলেন বিএনপি নেতা এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজাম
​মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ‘জুলাই বিপ্লবের’ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এক কালজয়ী ও আবেগঘন বক্তব্য পেশ করেছেন বিএনপি নেতা এবং সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজাম। প্রায় ১১ মিনিটের এই দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেছেন জুলাই বিপ্লবের পটভূমি, ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের স্মৃতি, শহীদদের রক্তের ঋণ এবং আগামী দিনের বাংলাদেশের জন্য তার স্বপ্নের কথা।

জুলাই বিপ্লবীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান সংসদ

​বক্তব্যের শুরুতেই আশরাফ উদ্দিন নিজাম ২০২৪ সালের ‘রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লব’-এর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "আজ আমরা যে মহান সংসদে বসার সুযোগ পেয়েছি, তা অর্জিত হয়েছে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে। আমাদের পরবর্তী ১০০ বছরের প্রজন্ম জানবে যে, এই সংসদের অধিকার ফিরে পেতে তাদের পূর্বপুরুষদের কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।"

​তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণভবন বা সংসদ ভবনের ভাঙচুর কোনো নির্দিষ্ট দলের কাজ ছিল না; বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। রিকশাচালক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ জনতা—সকলেই এই বিপ্লবের অংশীদার। তিনি আবু সাঈদ, ফাইয়াজ, আকরামদের মতো অকুতোভয় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের বেহেশতের সর্বোচ্চ মাকাম প্রার্থনা করেন।

​রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দিতে পারলামনা

​বক্তব্যে আশরাফ উদ্দিন নিজাম নিজের সাহসী অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, "সংসদীয় রুলস অফ প্রসিডিউর অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করি, কিন্তু ব্যক্তি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ধন্যবাদ জানাতে পারছি না।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে তার আপসহীন অবস্থান ব্যক্ত করেন।

​ওয়ান-ইলেভেন ও বেগম খালেদা জিয়ার লড়াই

​নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি ২০০৭ সালের ‘ওয়ান-ইলেভেন’ পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, সেই কঠিন সময়ে মাত্র ২৯ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে খালেদা জিয়া যেভাবে দল ও গণতন্ত্রকে আগলে রেখেছিলেন, তা আজ ইতিহাসের অংশ। তার ভাষায়, "ম্যাডামের চোখের পানি ও নিঃশ্বাসের শব্দ আমি কাছে থেকে অনুভব করেছি। তিনি কখনোই আপস করেননি।"

​তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা এই সংসদকে বিরোধী দল দমনের টোকেন হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যুব মহিলা লীগের নেত্রীদের দিয়ে তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলানো হতো বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

​শহীদ জিয়ার আদর্শ ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

আশরাফ উদ্দিন তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "জিয়াউর রহমান ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন, সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তির উৎস।" তিনি নিজের ছাত্রজীবন এবং হিজবুল বাহার সফরের স্মৃতিচারণ করে জিয়াউর রহমানের দর্শনের প্রতি তার অবিচল আস্থার কথা জানান।

​"দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ"

​বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতি ঐক্যের ডাক দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, "ষড়যন্ত্র এখনও বন্ধ হয়নি। জাতীয়তাবাদী নেতাদের টিকে থাকতে হলে যুদ্ধের মানসিকতা নিয়ে থাকতে হবে।" তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। তার স্লোগান ছিল—"দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ।"

​বাতিওয়ালার গল্প ও অন্ধকারের অবসান

​বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি একজন বিশ্বযুদ্ধ ফেরত সৈনিকের উদাহরণ টেনে বলেন, বাঙালি জাতি সবসময় লড়াই করেছে—তা হোক মোগলদের বিরুদ্ধে ইশা খাঁ, কিংবা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তিতুমীর। তিনি নিজেকে একজন ‘বাতিওয়ালার’ সাথে তুলনা করেন, যিনি পথে পথে আলো জ্বালেন কিন্তু নিজের ঘরেই অনেক সময় অন্ধকার জমে থাকে। সেই অন্ধকার ঘুচিয়ে একটি সুন্দর, স্বাভাবিক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

​তারেক রহমানের নেতৃত্ব

​আশরাফ উদ্দিন নিজাম তার বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তার "সবার আগে বাংলাদেশ" ভিশনকে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা রামগতি ও লক্ষ্মীপুরের মানুষের পক্ষ থেকে সকলের ভালোবাসা চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
জনগণই রাষ্ট্রের মালিক: জণগণকে দেওয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে চায় বিএনপি সরকার
আরও পড়ুন →