![]() |
| জণগণকে দেওয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে চায় বিএনপি সরকার |
শনিবার বিয়াম ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই চেতনার পুনরুল্লেখ করে বলা হয়, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।
জুলাই অভ্যুত্থান: অধিকার আদায়ের এক নতুন ইশতেহার
২০২৪ সালের সেই উত্তাল দিনগুলো কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার এবং জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। জুলাই অভ্যুত্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারে না। এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল বৈষম্যহীনতা এবং ন্যায়বিচার, যা আজ 'জুলাই সনদ' নামে পরিচিত।জনপ্রশাসন ও জনগণের মালিকানা
রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্মকর্তাদের জন্য জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা একটি বড় বার্তা বহন করে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "আপনারা রাষ্ট্রের মালিক জনগণের সেবক। আপনাদের প্রতিটি কর্মপরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত যেন জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে হয়।"
বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে যারা বুক পেতে বুলেট গ্রহণ করেছে, সেই বীর ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এবং তিনি আরো বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার যে নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা জনগণের সাথে একটি পবিত্র চুক্তি। এই চুক্তির প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন করা এখন প্রশাসনের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
রাষ্ট্রীে সংস্কার ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম চেতনা ছিল মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে—নিয়োগ, বদলি কিংবা পদোন্নতি—সব ক্ষেত্রে মেধা, সততা এবং দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। গত ১৫ বছরের প্রশাসনিক দলীয়করণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন এবং শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) গঠনের মাধ্যমে মেধার জয়গান গাওয়াই এখন নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য। সরকার বিশ্বাস করে, মেধাভিত্তিক প্রশাসনই পারবে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে।
শিল্প বিপ্লব ও আধুনিক প্রশাসন
জনগণকে দ্রুত সেবা দিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল অটোমেশনের মাধ্যমে সরকারি দফতরগুলোকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো, কোনো নাগরিককে যেন সেবার জন্য সরকারি অফিসে ধরণা দিতে না হয়, বরং সেবাই যেন নাগরিকের হাতের নাগালে পৌঁছে যায়।বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। যেখানে উন্নয়নের সুফল কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছাবে। নারী, যুবসমাজ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়াই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

