ইসহাক সরকার: রাজপথের এক আপসহীন লড়াইয়ের নাম
দীর্ঘ ১০টি বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনার কারাগারে বন্দী ছিলেন, সহ্য করেছেন রিমান্ডের মতো দুঃসহ যন্ত্রণা, তবুও নিজ আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি। নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার আর ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে, দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই তার কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই নিঃস্বার্থ ত্যাগই তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক অকুতোভয় ও বিশ্বস্ত জননেতা হিসেবে স্থান করে দিয়েছে।
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী যদি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতো ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটে, তবে তাদের পতন ঘটাতে জনগণ খুব বেশি সময় নেবে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে হুশিয়ারি দিলেন ইসহাক সরকার
এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ইসহাক সরকার বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "জনগণের কথা বলার অধিকার, মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার ফিরিয়ে দিন। ছাত্র-জনতার রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তাকে কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।" তিনি স্পষ্ট জানান, যদি শাসকরা স্বৈরাচারী আচরণ শুরু করে, তবে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তারা রাজপথে ফিরতে বাধ্য হবেন।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের স্মৃতি
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে এই বিপ্লবী নেতা বলেন, জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো তাকে কারাগারের অন্ধকার ঘরে কাটাতে হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় কারাবরণ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি সব শাসনামলেই জুলুম ও স্বৈরশাসন দেখেছি। দেশের জনগণ সেটা সহ্য কটেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য এ দেশের সচেতন জনগণ কখনোই সহ্য করবে না।
ইসহাক সরকার কেন যোগ দিলেন এনসিপিতে?
নতুন রাজনৈতিক দলে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে ইসহাক সরকার জানান, এনসিপির আদর্শ ও লক্ষ্যের মধ্যেই তিনি জনগণের নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই দলের মাধ্যমেই দেশের মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সর্বদা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদাপ্রস্তুত থাকতে হবে।ঈমান ও সততার অঙ্গীকার
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশের মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, "সারা জীবন সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। যে দায়িত্বই আসুক না কেন, তা যেন ঈমানের সঙ্গে পালন করতে পারি। প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দিতেও আমি কুণ্ঠাবোধ করব না। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের যে হাওয়া বইছে, তা রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

