![]() |
| ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ |
সম্প্রতি এক সভায় দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দলটি বর্তমানে এক গভীর রাজনৈতিক হীনমন্যতায় ভুগছে। তিনি বলেন, "বিএনপি যখন ২৪-এর আয়নায় তাকায়, তখন সেখানে তাদের কোনো মিছিলের ছবি নাই। ছাত্র-তরুণদের সাথে রাজপথের সেই উত্তাল সংগ্রামে বিএনপির কোনো ব্যানার ছিল না।"
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনের চূড়ান্ত সময়ে বিএনপির নেতারা দায়বদ্ধতা এড়াতে ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যস্ত ছিলেন। ৭১-এর সংকটের মতো ২৪-এর বিপ্লবেও দলটির শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। ফলে আজ যখন ১৪০০ শহীদ আর হাজারো আহতের রক্তের বিনিময়ে নতুন ইতিহাস লেখা হয়েছে, সেখানে বিএনপি নিজেদের খুঁজে পাচ্ছে না।
যে কারণে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ফুয়াদ
দেশের বর্তমান আইনি ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, "আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনভাবে কথা বলেন যেন বাংলাদেশে তাদের চেয়ে বড় কোন আইন বিশেষজ্ঞ আর কেউ নেই। আমি আর শিশির (আইনজীবী) তাদের ওপেন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি—সাহস থাকলে ডাকসুতে এসে আমাদের সাথে সংবিধান ও ইতিহাস নিয়ে কথা বলুন।" বিশেষ করে গুম ও নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়ে আইনমন্ত্রী জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে তিনি এভাবে মিথ্যাচার করতে পারেন না।জুলাই বিপ্লবকে বিশ্বযুদ্ধের সাথে তুলনা করলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ
জুলাই অভ্যুত্থানকে বিশ্বযুদ্ধের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের আন্দোলন নয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ের মতো এটি একটি দীর্ঘ ‘সিসফায়ার’ বা যুদ্ধবিরতি চলছে মাত্র। রাজনীতির আকাশে যে দুর্যোগের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, তা আবারও রাজপথকে উত্তাল করবে।ব্যারিস্টার ফুয়াদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম ও শরীফ ওসমান হাদীদের উত্তরসূরিরা আবারও আবাবিল হয়ে বাংলার আকাশে ফিরে আসবে। এই দেশ কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। লাখো শহীদের রক্তে কেনা এই দেশে আজাদি আর ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।"
বক্তব্যের শেষে তিনি তরুণ সমাজকে সতর্ক করে বলেন, সামনে এক অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে এবং সেই লড়াই হবে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার মর্যাদা রক্ষার লড়াই।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বক্তব্যটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:
“আমি একটা রাষ্ট্র বানাতে চাই, যে রাষ্ট্রটা আমার স্বপ্নের চেয়ে বড় হবে, আকাশ সমান হবে; তেমন একটা রাষ্ট্র চাই। সেই রাষ্ট্রটা শেখ মুজিব আওয়ামী লীগ করতে পারে নাই বলে তার হীনমন্যতা। এক্সাক্টলি দেখবেন বিএনপি নেতাদের মধ্যে—সে যখন ২৪-এর আয়নায় তাকায়, বিএনপির কোনো মিছিলের ছবি নাই। ঠিক। সে যখন ২৪-এর আয়নায় তাকায়, বিএনপির ব্যানার ধরা কোনো মিছিল নাই। সে যখন ২৪-এর আয়নার দিকে তাকায়, ছাত্র-তরুণদের সাথে একসাথে বিএনপির নেতারা মিছিল করছে তেমন কোনো প্রতিবাদের ঝড় নাই; বরং তারা অন রেকর্ড বলেছিল, 'এটার সাথে আমরা নাই'। এই হীনমন্যতা বিএনপি তাড়া করে ফেলছে।সে যখনই ২৪-এর আয়নায় তাকায়, সে এনসিপিকে দেখে, এবি পার্টিকে দেখে, তরুণদেরকে দেখে, নাম না জানা ১৪০০ শহীদকে দেখে, ২৬,০০০ আহত মানুষকে দেখে, ৬০০ অন্ধকে দেখে; কিন্তু সে বিএনপিকে খুঁজে পায় না। এই হীনমন্যতাকে তাকে ২৪-এর জায়গা থেকে তাড়া করে ফিরছে। এবং এক্সাক্টলি তার নেতারা ৭১-এর মতো পালায়া ছিল, জেলে ছিল, নতুবা তারা বিদেশে ছিল। এক্সাক্টলি সেইম ফেনোমেনা মনে হচ্ছে ৭১ নতুন করে ২৪-এ আবার নতুন করে রিস্ক্রিপটেড হয়েছে—ফর দ্য নেশন টু রিমেম্বার।
এই হীনমন্যতা যদি বিএনপি উঠাইতে না পারে... এটার কারণ হচ্ছে আজকের আমাদের লার্নেড ফ্রেন্ডরা, আইনমন্ত্রী, আমাদের ডিপার্টমেন্টের বড় ভাইয়েরা, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—ওনারা আমাদেরকে প্রত্যেকদিন আইন শেখায়। এজ ইফ বাংলাদেশে ওনাদের মতো আইন বোঝা মানুষ আসলে নাই। ডাকসুকে অনুরোধ করছি, আমাদের আইনমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলাম আজকে। আমি আর শিশির বাংলাদেশ সরকারের যে কোনো মন্ত্রীকে অন রেকর্ড কনস্টিটিউশনাল চ্যালেঞ্জ করে গেলাম। যদি আমাদের সাথে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, প্লিজ অন ব্যাস! আমি আর শিশির বাংলাদেশ সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে গেলাম অন কনস্টিটিউশন। প্লিজ কাম, টক অ্যাবাউট দ্য কনস্টিটিউশন অ্যান্ড হিস্ট্রি। দেখি আপনারা পারেন কি না, সাহস থাকলে আসেন ডাকসুতে!
আপনাদের কার কতটুকু কনস্টিটিউশনাল নলেজ আছে? কনস্টিটিউশনাল ডেপথ আছে? উই লাইক টু সি ইট! বাংলাদেশে বোগাস আর্গুমেন্ট দিচ্ছেন পার্লামেন্টকে, বোগাস মিসলিড করছেন, মিথ্যাচার করছেন। গুমের ব্যাপারে দেখলাম আইনমন্ত্রী প্রপারলি মিসলিড করেছেন। অ্যাজ এ ক্যাবিনেট মিনিস্টার, হি ক্যাননট মিসলিড দ্য নেশন। অ্যাজ এ ক্যাবিনেট মিনিস্টার হিসেবে তিনি নেশনকে মিসলিড করতে পারেননা। সেই জায়গাতে আমরা বারবার বলছি, এই জাতিকে আমরা ওয়ার্ন করছি, আমাদের তরুণদেরকে আমরা বলছি যে, এটা এক অনিবার্য বিপ্লবের বাস্তবতা তৈরি করছে।
প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে যারা হিস্টোরিয়ান আছেন তারা বলেছেন যে, এটা আসলে দুইটা বিশ্বযুদ্ধ ছিল না; ইট ওয়াজ ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ার উইথ আ লং সিসফায়ার। অমীমাংশিত জায়গা ছিল। এবং সেইজন্য যেটা হয়েছে—বাংলাদেশে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান জুলাই সনদ দিয়ে শেষ হয়ে যায় নাই। এটা একটা অনিবার্য কাঙ্ক্ষিত বিপ্লবের মধ্যস্থতার সময় চলছে, সিসফায়ার পিরিয়ড চলছে। এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি আকাশে যে টরনেডোর কালো মেঘ বৈশাখের চেপে বসেছে, এই রাজনীতির কালো বৈশাখ আবার কয়দিন পরে এই রাজনীতির আকাশে ফিরে আসবে।
আমাদের তরুণরা আবার মুক্তির লড়াই নিয়ে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শরীফ ওসমান হাদীর মতো আবাবিল হয়ে আবার বাংলার আকাশে ফিরে আসবে। শুধুমাত্র এইটা বলবার জন্য—বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারো বাপের না। আজাদির প্রশ্নে, ইনসাফের প্রশ্নে আপোষ না করে আমরা লড়াই করে যাব বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকার জন্য। এটাই হচ্ছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সেই অবিসংবাদিত জায়গা যেই জায়গাটা আবার আগামী দিনে ঘুরে ফিরে আসবে এবং আসছে।”

