জামায়াতকে নির্মূল করার হুশিয়ারি দিলেন মির্জা ফখরুল

Khomota
0
দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল
দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল
​আগামী ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিশাল জনসমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ সময় পর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সভা শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে এবারের মে দিবসের প্রস্তুতির চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির ক্রমবর্ধমান দূরত্ব এবং সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

​মে দিবসের প্রস্তুতি ও বিএনপির কর্মসূচি

​ঐতিহাসিক ১৮৮৬ সালের শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে মে দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশেও এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল’ এবারের মে দিবসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

​নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এই দিবসটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি গণতন্ত্র রক্ষার ‘শপথ নেওয়ার দিন’।

​জামায়াতের সঙ্গে সংঘাত: রাজনীতির নতুন সমীকরণ?

​সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা। জামায়াত আমিরের অভিযোগ ছিল— বিএনপি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ক্ষমতায় এসেছে। এই মন্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, "আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জামায়াত বা তাদের দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করে না, এটি তারই প্রমাণ।"

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে এই কাদা ছোড়াছুড়ি দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ইঙ্গিত করছে। একদিকে বিএনপি দাবি করছে তারা নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তায় ২১৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে, অন্যদিকে জামায়াতের মতো দলগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মির্জা ফখরুল এই অভিযোগকে কেবল প্রত্যাখ্যানই করেননি, বরং জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে ‘নির্মূল’ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

​গণতন্ত্র না কি ক্ষমতার দাপট?

​বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও অবাধ’ হিসেবে দাবি করা হলেও বিরোধী শিবিরের ভিন্নমত রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উসকে দিচ্ছে। মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে একটি ‘অদৃশ্য শক্তি’র কথা উল্লেখ করেছেন যারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। কিন্তু সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘদিন রাজপথে লড়াই করা একটি দল ক্ষমতায় আসার পর কেন এত দ্রুত অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে?

​বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে মির্জা ফখরুলের উদ্বেগ প্রকাশকে অনেকে ‘দ্বিমুখী অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন। তিনি যখন বলেন, ছাত্ররা অপরাজনীতি পরিহার করবে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে— ছাত্র রাজনীতিকে কি তবে কেবল নিজ দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে?

​সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল নিয়ে বিএনপির ক্ষোভ

​সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপিকে নিয়ে ট্রল বা কার্টুন প্রচারের বিষয়ে মহাসচিব ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি একে ‘ফেক ইনফরমেশন’ বা ভুল তথ্য বলে অভিহিত করেছেন। তবে ডিজিটাল যুগে এসে রাজনৈতিক দলগুলো কতটুকু সমালোচনা সইবার ক্ষমতা রাখে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। ৫ই আগস্টের পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কথা বিএনপি বলছে, তা কেবল একক দলের আধিপত্যে সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​কি হতে চলেছে মে দিবসে?

​মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কথা থাকলেও নয়াপল্টনের ব্রিফিংটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আধিপত্য এবং জামায়াতের সঙ্গে বিরোধের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি এবং জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার ঘোষণা— সব মিলিয়ে আগামী দিনের রাজনীতিতে রাজপথের উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।

​মে দিবসের এই সমাবেশ কি কেবলই শ্রমিকদের সম্মানে, নাকি এটি ক্ষমতার শক্তি প্রদর্শনের একটি মহড়া— তা দেখার জন্য দেশবাসীকে ১লা মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
​জনগণই রাষ্ট্রের মালিক: জণগণকে দেওয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে চায় বিএনপি সরকার
আরও পড়ুন →

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!