এটা শাহবাগ নয়, পার্লামেন্ট, লাইভে এসে প্রতিবাদ হাসনাতের

পুলিশ সারাদিন ডিউটি করে, ওভারটাইম পায় না, অমানবিক জীবন কাটায়। বিচার বিভাগকে দলীয়করণে তীব্র ক্ষোভ, এস আলম গ্রুপকে ব্যাংকিং খাত লুটপাট করতে সুযোগ দিচ্ছে
হাসনাত আবদুল্লাহ লাইভ
সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লাইভ করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ
আজ মধ্যরাতে হঠাৎ ফেসবুক লাইভে এসে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ও বর্তমান বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন দেশের মানুষ দেখেছিল, তা বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে ধূলিসাৎ হতে চলেছে বলে অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান সংসদ ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রেই এক ধরনের 'ব্যাকওয়ার্ড মুভ' বা পিছনের দিকে হাঁটার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

পুলিশ সংস্কারের কফিনে কি শেষ পেরেক মেরে দিলো?

হাসনাত আবদুল্লাহ শুরুতেই পুলিশের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার এএসআই বারবার বলছেন তিনি নির্দোষ, কারণ তিনি কেবল সরকারের হুকুম পালন করেছেন। সেই নির্দেশ কি লফুল নাকি আনলফুল সেটাকে অ্যাক্সেস করা কিন্তু পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয় না। যেকারণে পুলিশকে দিয়ে এই যে গুম, খুন আর দমন-পীড়ন করানো হয়, তা বন্ধ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার 'পুলিশ গ্রিভিয়েন্স রিড্রেস প্রোগ্রাম' চালু করেছিল।

হাসনাত অভিযোগ করেন, "পুলিশ সারাদিন ডিউটি করে, ওভারটাইম পায় না, অমানবিক জীবন কাটায়। রাজারবাগে গেলে দেখবেন তারা কী কষ্টে থাকে। অথচ তাদের পদোন্নতি আর পোস্টিং আটকে রাখা হয় রাজনৈতিক সদিচ্ছার জন্য। বিএনপি সরকার এই সংস্কার কমিশন বাতিল করে দিয়ে পুলিশকে আবার সেই আগের মতো 'লাঠিয়াল বাহিনী' বানাতে চাচ্ছে।"

বিচার বিভাগকে দলীয়করণে তীব্র ক্ষোভ হাসনাতের

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ' বাতিল করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, "বিচারকের প্রমোশন আর বদলি যদি আইনমন্ত্রীর হাতে থাকে, তবে কোনো বিচারক কি স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারবেন? রায় পছন্দ না হলে তাকে খাগড়াছড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আমরা কি আবারও জাস্টিস মানিক বা ওবায়দুল হকদের মতো দলীয় বিচারক ফিরে পেতে চাই?"

এস আলম গ্রুপকে ব্যাংকিং খাত লুটপাট করতে সুযোগ দিচ্ছে বিএনপি

ব্যাংকিং খাতের নতুন আইন নিয়ে সবচেয়ে বড় জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছে। "ইন্টারিম গভর্নমেন্ট নিয়ম করেছিল যে ব্যাংক চোররা আর মালিকানায় ফিরতে পারবে না। কিন্তু গতকাল বিএনপি সরকার আইন করল—মাত্র ৭% টাকা ফেরত দিলেই তারা আবার মালিকানা পাবে! এর মানে হলো এক লাখ টাকা চুরি করে মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে আপনি আবার দোকানের মালিক হয়ে গেলেন। এটা জনগণের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা।"

এটা শাহবাগ নয়, পার্লামেন্ট স্পিকারের এই কথার ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত

​সংসদে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া নিয়ে হাসনাত অভিযোগ করেন, "সালাউদ্দিন সাহেব (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) একই বিষয়ে ৪০ মিনিট কথা বলেন, অথচ আমাদের সময় দেওয়া হয় মাত্র ২ মিনিট। আমরা যখন প্রতিবাদ করি, তখন আমাদের মুখের ওপর বলা হয়—'এটা শাহবাগ নয়, এটা পার্লামেন্ট'। সংসদ শুরুর ১৫ মিনিট আগে বড় বড় বিল হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এটাকে তিনি 'দিনের আলোতে প্রতারণা' ও 'জোচ্চুরি' বলে অভিহিত করেন।"

ম্যাডাম বেঁচে থাকলে লজ্জিত হতেন

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, বিএনপির বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা আগের চেয়েও নগ্নভাবে রাজনৈতিক দখলে মেতেছে। বিসিবি দখল থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার ধ্বংস করা—সবই তাদের এজেন্ডা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে দলের এই অবস্থা আর এমন জালিয়াতি দেখে নির্ঘাত কষ্ট পেতেন এবং লজ্জিত হতেন।"
ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপির প্রাণপণ চেষ্টা, আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের
আরও পড়ুন →