জুলাই বিপ্লবীদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধে আইন। কতটুকু সুরক্ষা দিবে বিপ্লবীদের?

Khomota
0
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা বিল-২০২৬
গণভবন থেকে জনগণের ভবন: একটি ঐতিহাসিক বিপ্লবের পূর্ণতা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল আজ জাতীয় সংসদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাস হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল-২০২৬’। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই আইনটি কার্যকর হওয়ার ফলে জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হলো।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬ আইনের মূল লক্ষ্য ও প্রভাব

পাস হওয়া নতুন এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে হওয়া সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এখন থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা আন্দোলন দমনের নামে যেসব হয়রানিমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তার কোনো কার্যকারিতা আর থাকবে না।

শুধু বর্তমান মামলাই নয়, ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। আইনগতভাবে একে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিপ্লবীদের দীর্ঘমেয়াদী আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করল বর্তমান সরকার।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পতন ছিল না, এটি ছিল কয়েক দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এক চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। সম্প্রতি পাস হওয়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন-২০২৬’ এই আন্দোলনকে কেবল আইনি বৈধতাই দেয়নি, বরং এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিনশ্বর অধ্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো।

যেভাবে জন্ম হলো ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতার সূর্যোদয়। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বলা হচ্ছে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বা ‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের জন্ম’। ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি যেমন ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙেছিল, ২৪-এর জুলাইয়েও ছাত্র-জনতা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। যা নবনির্মিত এই আইনটি সেই ঐতিহাসিক সাহসিকতাকে রাষ্ট্রীয় শিলমোহর প্রদান করল।

নূর হোসেন থেকে আবু সাঈদ: সংগ্রামের বিবর্তন

১৯৮৭ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের বুকে-পিঠে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। ২০২৪ সালে সেই লড়াইয়ের মশাল হাতে নিয়েছিলেন আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং আরও হাজারো তরুণ। আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চিত্রটি এখন আর কেবল একটি ছবি নয়, এটি প্রতিরোধের বিশ্বজনীন প্রতীক। নতুন পাস হওয়া আইনটি আবু সাঈদদের সেই আত্মত্যাগকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করল যে, ন্যায়ের পক্ষের লড়াই কখনো বৃথা যায় না।

রক্ষীবাহিনী বনাম জুলাই বিপ্লবীদের রক্ষায় আইন

নিউজের এই অবস্থায় এসে ঐতিহাসিক একটি তুলনা এখানে প্রাসঙ্গিক বলে মনে হচ্ছে। ১৯৭২ সালে রক্ষীবাহিনীকে দায়মুক্তি দিয়ে যে ইনডেমনিটি বা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘকাল বিতর্ক ছিল এমনকি বর্তমানেও অনেক বিতর্ক আছে। কিন্তু ২০২৬ সালের এই ‘সুরক্ষা আইন’ এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তৈরি। এখানে বিশেষ কোন বিশেষ গুন্ডা বাহিনীকে নয়, বরং স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা সাধারণ ছাত্র-জনতাকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। এটি কোনো অন্যায়কে ঢাকার ঢাল নয়, বরং বিপ্লবীদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের একটি ঐতিহাসিক রক্ষাকবচ।
দেশের শীর্ষ বিশ ঋণ খেলাপীর তালিকা প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী, নেই বিএনপি সাংসদদের নাম
আরও পড়ুন →
Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!